কুয়ালালামপুর, ২ ডিসেম্বর : প্রেমিকাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পর ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে মারধর ও হত্যার হুমকির ঘটনায় চেরাস বারু এলাকায় তিন আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অ্যাম্পাং জায়া জেলা পুলিশ প্রধান এ সি পি খাইরুল আনোয়ার খালিদ জানিয়েছেন, ২৪ থেকে ৫৬ বছর বয়সী তিন সন্দেহভাজনকে শনিবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে অ্যাম্পাং জায়া জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের একটি দল গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ২২ বছর বয়সী যুবক তার প্রেমিকাকে নামিয়ে দেওয়ার পর মেয়েটির দুই বড় ভাইয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়। একপর্যায়ে এক ভাই পিভিসি পাইপ দিয়ে ভিকটিমের পায়ে আঘাত করেন এবং মুখে ঘুষি মারেন, যাতে তার নাক ভেঙে যায়। পরে তাকে অ্যাম্পাং হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ সময় মেয়েটির চাচা, তৃতীয় সন্দেহভাজন, অভিযোগকারীকেকে হুমকি দিয়ে বলেন— যদি আবার ওই মেয়ের সঙ্গে বাইরে দেখা করে, তবে তাকে হত্যা করবেন।
ভুক্তভোগী রাত ৪টা ৫০ মিনিটে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকেই আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে পিভিসি পাইপও জব্দ করা হয়েছে। খাইরুল আনোয়ার আরও জানান, দুই ভাইয়ের একজনের আগের একটি অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে। তাদের চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে তদন্ত চলছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারায় তদন্ত করা হচ্ছে।
আরেক ঘটনায়, বুকিত অ্যাম্পাংয়ের লুকআউট পয়েন্ট এলাকায় বিদেশি এক নাগরিককে লক্ষ্য করে সংঘটিত রোড বুলিংয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন বিদেশি, বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
১৪ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে পাকিস্তানি এক নাগরিক ও তার দুই বন্ধু গাড়িতে করে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখনই এক ব্যক্তি এসে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে এবং তাদের গাড়ি থামানোর চেষ্টা করে।
পরে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগীদের গাড়িকে পেছন থেকে অনুসরণ করে অ্যাম্পাং লুকআউট পয়েন্ট পর্যন্ত যায়। তিনি নিজেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদস্য পরিচয় দেন এবং একটি কর্তৃপক্ষের পরিচয়পত্র দেখানোর চেষ্টা করেন। এরপর প্রায় ২৫ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে গাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং ভুক্তভোগীদের মারধর করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তার দুই সঙ্গী শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান এবং তাদের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চারজনকে তিন থেকে ছয় দিনের রিমান্ডে রাখা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৮ (অস্ত্রসহ দাঙ্গা) এবং ৪২৭ (ক্ষতি সাধন) ধারায় তদন্তাধীন।