যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘতম সরকারি অচলাবস্থার (Government Shutdown) কারণে দেশজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। রেকর্ড সময় ধরে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জরুরি দায়িত্বে থাকা বিমান নিয়ন্ত্রণকর্মীদের (Air Traffic Controllers) মধ্যে অনুপস্থিতির হার বেড়ে গেছে, ফলে বিমানবন্দরে দেরি ও বাতিলের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেই এখন কর্মীঘাটতি দেখা দিয়েছে। নিউইয়র্ক অঞ্চলের বিমানবন্দরে অনুপস্থিতির হার প্রায় ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ১৬,৭০০-এরও বেশি ফ্লাইট দেরি হয়েছে এবং আরও ২,২০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার দিকেও চার হাজারের বেশি ফ্লাইট সময়মতো ছাড়তে পারেনি এবং ৬০০-রও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়।
সরকারি অচলাবস্থার ৩৫তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮–১৯ সালের শাটডাউনের রেকর্ড ছুঁয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সরকারি বন্ধ। FAA জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণকর্মীরা যদিও “অবিচ্ছিন্ন কর্মী” হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে তারা বেতন পাচ্ছেন না।
FAA এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “যখন কর্মীসংখ্যা কমে যায়, তখন নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিমান চলাচলের গতি হ্রাস করতে হয়। আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি।”
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বলেন, “আমরা সিস্টেমের নিরাপত্তা বজায় রাখতে অতিরিক্ত সময় কাজ করছি। তবে যাত্রীরা দেরি ও ফ্লাইট বাতিলের অভিজ্ঞতা পেতে পারেন।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে বিমান চলাচল খাতের পাশাপাশি অর্থনীতি ও বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
**উপসংহার:**
সরকারি অচলাবস্থা দ্রুত না কাটলে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচলব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হতে পারে। যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিমান সংস্থার আপডেট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং ভ্রমণ পরিকল্পনায় নমনীয়তা রাখার।