২০১৭ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যা। সিলেটের শিববাড়ী পাঠানপাড়া এলাকার জামে মসজিদের কাছে জঙ্গিদের বোমা বিস্ফোরণে আহত হন জালালাবাদ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম। ২৬ মার্চ ভোর ৪ চারটায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন শিববাড়ি এলাকায় ‘আতিয়া মহল’নামে পাঁচতলা একটি বাড়ির নিচতলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে বলে জানতে পারে পুলিশ। সকাল ৮টার দিকে আতিয়া মহলের ভেতর থেকে বাইরের দিকে গ্রেনেড ছোড়া হয়।
জঙ্গিদের বোমা বিস্ফোরণে পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয় জন নিহত হন। নিহতদের সবার শরীরের বিভিন্নস্থানে স্প্লিন্টারের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়াও ওই ঘটনায় বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে আরও ৩০ ব্যক্তি আহত হন।
২৬ মার্চ এলেই ওসি মনিরুলের গ্রামের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া । ৭ বছর পরও সন্তানের জন্য কাঁদছেন নিহত ওসি মনিরুল ইসলামের মা। বাবার কথা স্মরণ করে ২৬ মার্চ সকাল থেকেই মন খারাপ নিহতের একমাত্র সন্তান ফারাবীর।
দুই বছর বয়সে জঙ্গিরা তার বাবার প্রাণ কেড়ে নেয়। এখন ফারাবির বয়স ৯ বছর। সরকারি সুবিধা পেয়ে আর্থিক কোনো টানাপোড়েন না থাকলেও স্বামী, বাবা ও সন্তানের জন্য ২৬ মার্চ আসলেই মন খারাপ হয়ে যায় ওসি মনিরুলের স্ত্রী, সন্তান ফারাবি ও মা ফিরোজা খাতুনের ।
ওসি মনিরুলের মতো নাতীকেও সৎ পুলিশ অফিসার হিসেবে দেখতে চান ফিরোজা খাতুন । সরকারকে রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ দিয়ে মনিরুলের মতো তার সন্তান ফারাবিকেও পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান ওসি মনিরুলের মা।