মালয়েশিয়া স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখবে, তবে ফিলিস্তিন ইস্যু, ইসলামবিদ্বেষ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের গ্র্যান্ড হায়াতে অনুষ্ঠিত ৩৯তম এশিয়া-প্যাসিফিক রাউন্ডটেবিলে মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি হবে স্বাধীন, সক্রিয় ও দৃঢ়ভাবে জোটনিরপেক্ষ। তবে দেশের মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে স্পষ্ট অবস্থান নিতে দ্বিধা করবে না সরকার।
এতে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ফিলিস্তিনের সংগ্রাম, ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলা কিংবা জাতীয় সার্বভৌমত্বের মতো মৌলিক প্রশ্নে মালয়েশিয়া নিরপেক্ষ থাকতে পারে না। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো প্রভাবশালী দেশের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং অর্থনৈতিক বা সামরিক চাপ প্রয়োগের বিরোধিতা করা মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থান।
দক্ষিণ চীন সাগর প্রসঙ্গে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, আসিয়ান ও মালয়েশিয়া, চীনের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিতর্কিত জলসীমা নিয়ে আচরণবিধি (কোড অব কন্ডাক্ট) দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বানে চীনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আসিয়ান নেতারা একমত হয়েছেন যে সংকটের রাজনৈতিক সমাধান হতে হবে মিয়ানমারের নিজস্ব নেতৃত্বে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে; বাইরে থেকে কোনো সমাধান চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
এমনকি কম্বোডিয়া–থাইল্যান্ড সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উভয় দেশের নেতৃত্ব আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ ছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আনোয়ার বলেন, সেখানে দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া জরুরি।
অর্থনৈতিক বিষয়ে তিনি জানান, মালয়েশিয়া পশ্চিম এশিয়া, মধ্য এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার নতুন বাজারগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণকে তিনি জাতীয় প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেন।