অবৈধ অভিবাসী, শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর ও সমন্বিত অবস্থানে যাচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার। একই সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখলেও জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি উদ্বাস্তু ও আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত জেটিপিপিপিএসের ষষ্ঠ উচ্চপর্যায়ের কমিটির সভায় অংশ নেন।
এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপপ্রধানমন্ত্রী। বুধবার উপপ্রধানমন্ত্রী ড. আহমাদ জাহিদ হামিদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার বর্তমান বাস্তবতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে অবৈধ অভিবাসী, শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত করার নানা প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে একটি একীভূত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন) জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হিসেবে তারা বিষয়টিকে বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করছে। মানবিক বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হলেও জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
এছাড়া বৈঠকে শরণার্থী নিবন্ধন নথি (ডিপিপি) বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রস্তাবও আলোচনা করা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, ভবিষ্যতে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতি ও পদক্ষেপ হবে বাস্তবসম্মত, সুস্পষ্ট এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়নযোগ্য। লক্ষ্য থাকবে, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা যেন একই নীতিমালার আওতায় সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, দেশের স্বার্থ, জনগণের নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।