সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করতে ৩০ হাজার বাণিজ্যিক গাড়িচালকের জন্য ‘সুস্থ ও নিরাপদ চালক কর্মসূচি’ চালু করেছে মালয়েশিয়া সরকার। আগামী ২ জুলাই থেকে দেশজুড়ে এ কর্মসূচি শুরু হবে।
মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা, সড়ক পরিবহন বিভাগ, এবং মালয়েশিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লক সিউ ফুক জানান, নতুন ব্যবস্থায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা হয়েছে। নিবন্ধিত প্যানেল ক্লিনিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা সরাসরি অনলাইনে রিপোর্ট আপলোড করবেন, যা জেপিজের ‘মাইসিকাপ’ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে পাবলিক সার্ভিস ভেহিকেল, গুডস ড্রাইভিং লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্র নবায়নে আর কাগজভিত্তিক মেডিকেল ফরম জমা দিতে হবে না।
এ কর্মসূচির আওতায় চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যয়ও কমানো হয়েছে। পারকেসোর ভর্তুকির কারণে যোগ্য চালকদের চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য মাত্র ৩০ রিঙ্গিত দিতে হবে। বর্তমানে এ খাতে সাধারণত ৮০ থেকে ১০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত খরচ হয়।
অ্যান্থনি লক বলেন, উন্নত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালকদের শারীরিক সমস্যা আগেভাগে শনাক্ত করতে সহায়তা করবে এবং তারা নিরাপদভাবে যানবাহন চালাতে সক্ষম থাকবেন।
কুয়ালালামপুরে কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম ধাপে ৪০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ৩০ হাজার বাণিজ্যিক চালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য মোট ১ কোটি ২৪ লাখ রিঙ্গিত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৭০ লাখ রিঙ্গিত দিচ্ছে পারকেসো এবং ৫৪ লাখ রিঙ্গিত দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
বর্তমানে দেশজুড়ে ৫০০টি নিবন্ধিত প্যানেল ক্লিনিকের মাধ্যমে কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩ হাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বছরের শেষে কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে ২০২৭ সালে আরও চালককে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।