বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছে ফিনটেক প্রতিষ্ঠান অ্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল অপারেশনস সেন্টার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উচ্চমূল্যের সেবা খাতে মালয়েশিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার নতুন বার্তা মিলেছে।
বুধবার কুয়ালালামপুরের তুন রাজাক এক্সচেঞ্জ এলাকায় অ্যান্ট ইন্টারন্যাশনালের গ্লোবাল অপারেশনস সেন্টারের উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল—‘দ্য হাব অব অ্যা ডিজিটাল রেনেসাঁ’।
অনুষ্ঠানে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, অ্যান্ট ইন্টারন্যাশনালের এ সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ার প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বৈশ্বিক সেবা সক্ষমতার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। তাঁর মতে, এর আগে অনেক প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়াকে আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করলেও বৈশ্বিক অপারেশনস সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল অর্থব্যবস্থা নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। তবে এই পরিবর্তনকে টেকসই করতে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো অনেক সময় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সীমিত সম্পদের মানুষকে পিছিয়ে দেয়। তাই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলা, ক্ষুদ্রঋণ সম্প্রসারণ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে নতুন ধরনের উদ্ভাবন প্রয়োজন।
আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, ডিজিটাল বিপ্লব আন্তসীমান্ত আর্থিক লেনদেনকে সহজ করলেও এআই–নির্ভর ভবিষ্যতে তথ্য ও ডিজিটাল অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে মানুষের বিচারবোধ ও ডিজিটাল আস্থা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এছাড়াও তিনি জানান, মানব–যন্ত্র ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকার বর্তমানে এআই গভর্ন্যান্স বিল চূড়ান্ত করছে। এটি দেশটির বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।