জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম টোকিওতে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
দুই নেতা জানান, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর আওতায় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ খাতে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘লুক ইস্ট পলিসি’কে আরও আধুনিক ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে একমত হন তারা।
নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে যৌথ উদ্যোগ জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনলাইন জালিয়াতি, মাদক পাচার, অর্থপাচার, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
অর্থনৈতিক খাতে উভয় দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্প সহযোগিতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মালয়েশিয়ার অটোমোবাইল শিল্পে বিনিয়োগ এবং হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যানবাহন উন্নয়নে চলমান সহযোগিতাকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ক্ষেত্রে এলএনজি, পেট্রোলিয়াম, অ্যামোনিয়া-চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন, টেকসই বিমান জ্বালানি এবং কার্বন ক্যাপচার ও স্টোরেজ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং এ খাতে মালয়েশিয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপানের সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে নতুন সহযোগিতার অংশ হিসেবে ‘জাপান–মালয়েশিয়া এআই প্ল্যাটফর্ম’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপগুলো সামাজিক সমস্যা সমাধান এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই নেতা দক্ষিণ চীন সাগরে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অবাধ নৌ চলাচলের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন জানান।
এছাড়া মিয়ানমারে শান্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও দুই নেতা অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মভিত্তিক মুক্ত ও উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।