মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বুদাপেস্টে নির্ধারিত শীর্ষ বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। কারণ, ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা কিয়েভের পক্ষে কোনো ভূখণ্ড ছাড়াই যুদ্ধবিরতির জন্য কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। গত সপ্তাহে কূটনৈতিক আলোচনায় তেমন কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মধ্যে ফোনালাপের পর এই ঘোষণা আসে।
ল্যাভরভ বলেন, “রাশিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। আলাস্কার বৈঠকে যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল, তার কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
অন্যদিকে, ট্রাম্প বলেন, তিনি “অকার্যকর” কোনো বৈঠক করতে চান না। “আমি সময় নষ্ট করতে চাই না, দেখি কী হয়,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
এই বৈঠক স্থগিতের মাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত কূটনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, যা শুরু হয়েছিল ট্রাম্প ও পুতিনের ফোনালাপ দিয়ে। সেই ফোনালাপে পুতিন প্রস্তাব দেন, রাশিয়ার দখলে থাকা খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের কিছু অংশ ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে বিনিময়ে দোনেৎস্কের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের শর্তে।
ট্রাম্প প্রথমে এ প্রস্তাব বিবেচনা করলেও পরে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধের রেখাতেই থামাও, যুদ্ধ বন্ধ করো, মানুষ মারা বন্ধ করো।”
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্প টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বিলম্বিত করায় রাশিয়া আলোচনায় আগ্রহ হারাচ্ছে। কিয়েভ জানায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র পেলে তারা রাশিয়ার সামরিক শিল্প ও তেল অবকাঠামোতে চাপ বাড়াতে পারবে।
তবে রাশিয়া আগেই সতর্ক করেছে—এটি “উসকানিমূলক পদক্ষেপ” হিসেবে দেখা হবে।
এদিকে, জেলেনস্কি ও ইউরোপের নয়টি দেশের নেতা এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “বর্তমান যুদ্ধরেখা আলোচনার সূচনাবিন্দু হওয়া উচিত।”
স্বাক্ষর করেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টুস্কসহ ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা।
কিয়েভ জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার দখলকৃত কোনো অঞ্চলকে স্বীকৃতি দেবে না, তবে বর্তমান যুদ্ধরেখা ধরে যুদ্ধবিরতিতে রাজি।
ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্ররা এখন একটি ১২ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তৈরি করছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা”-এর অনুরূপ। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে একটি “শান্তি বোর্ড” এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন তদারকি করবে।