মক্কা: গ্র্যান্ড মসজিদ ও মসজিদে নববীর ধর্মবিষয়ক প্রেসিডেন্সির প্রধান শায়খ ড. আবদুর রহমান আল-সুদাইস জানিয়েছেন, ১৪৪৭ হিজরি হজ মৌসুমের অপারেশনাল পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে নির্ধারিত আধ্যাত্মিক, সচেতনতামূলক ও দিকনির্দেশনামূলক লক্ষ্যসমূহ পূর্ণ হয়েছে।
তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার ফলে হাজিদের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে এবং সেবার মান, গুণগত মান ও পরিচালনাগত উৎকর্ষতার উচ্চ মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
হজ মৌসুমে ধর্মবিষয়ক প্রেসিডেন্সি মোট ১৬৬টি বিশেষায়িত ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ৯৭টি গ্র্যান্ড মসজিদে এবং ৬৯টি মসজিদে নববীতে বাস্তবায়িত হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৬.৮ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ উপকৃত হন এবং অনলাইন ও সরাসরি মিলিয়ে ৪৬.৮ মিলিয়নের বেশি ডিজিটাল ও মাঠপর্যায়ের সম্পৃক্ততা সৃষ্টি হয়।
আল-সুদাইস আরও জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খুতবা অনুবাদের মাধ্যমে—আরাফাত, ঈদুল আজহা ও জুমার খুতবা—বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইসলামের মধ্যপন্থা ও সৌদি আরবের ধর্মীয় নেতৃত্বকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরা হয়েছে।
মৌসুমে ৬৮৩,০০০-এর বেশি সরাসরি দিকনির্দেশনা সেবা প্রদান করা হয় এবং ৯৫,০০০-এর বেশি ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৩২,০০০-এর বেশি হাজি তাৎক্ষণিক অনুবাদ সেবার সুবিধা পেয়েছেন।
এছাড়া ১,৮৬৮টি ধর্মীয় পাঠ ও লেকচার আয়োজন, ১,৭৪,৭১০টি কোরআন অধ্যয়ন বৃত্ত পরিচালনা, ১,৬০,০০০-এর বেশি কোরআন কপি ও ২,৩৬,৬০৫টি শিক্ষামূলক প্রকাশনা বিতরণ এবং ৮,৭২,৯৪৩টি সচেতনতামূলক উপহার প্রদান করা হয়েছে।
আল-সুদাইস বলেন, এই সফলতার পেছনে রয়েছে সৌদি নেতৃত্বের অব্যাহত সমর্থন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রম এবং ১৩,৮৭৯ জন স্বেচ্ছাসেবক ও অংশীদার সংস্থার নিবেদিত ভূমিকা।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক সেবা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাজিদের আধ্যাত্মিক যাত্রা আরও উন্নত করাই সৌদি আরবের লক্ষ্য।