বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলবন্যার দেখা মিলেছে। মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর এই লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের নায়ক ছিলেন বুকায়ো সাকা। দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। অন্যদিকে দুটি গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে গেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও সেমিফাইনালে হেরে দুই দলকেই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হয়। স্পেনের কাছে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ড হেরে ফাইনালের স্বপ্ন হারায়।
দুই কোচই একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনেন। ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল হ্যারি কেন, জুড বেলিংহাম ও জর্ডান পিকফোর্ডকে বিশ্রাম দিয়ে শুরু করেন। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশ্যমও ব্র্যাডলি বারকোলা ও ওসমান ডেম্বেলেকে বেঞ্চে রাখেন। একই সঙ্গে এটি ছিল ফ্রান্সের দায়িত্বে দেশ্যমের শেষ ম্যাচ।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ডিক্লান রাইস দূরপাল্লার শটে দলকে এগিয়ে দেন। ১৮ মিনিটে এজরি কোনসা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে বুকায়ো সাকা তৃতীয় গোল করে ইংল্যান্ডকে আরও এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সাকা বিরতির আগেই স্কোরলাইন ৪-০ করেন।
বিরতির পর চারটি পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন দেশ্যম। বদলি খেলোয়াড়দের নামানোর পরই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় ফ্রান্স। ৫২ মিনিটে এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান কমান। কিছুক্ষণ পর বারকোলা আরেকটি গোল শোধ করলে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে।
৬৬ মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মোট ২২ গোল করে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে যান তিনি। পাশাপাশি এবারের আসরের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে অবস্থান নেন।
ফ্রান্স সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে জেড স্পেন্সকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পটকিক থেকে সাকা নিখুঁত শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং ইংল্যান্ডকে আবারও স্বস্তির ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
ইনজুরি সময়ে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। ষষ্ঠ মিনিটে ওসমান ডেম্বেলে ফ্রান্সের চতুর্থ গোল করেন। তবে দুই মিনিট পর বদলি হিসেবে নামা জুড বেলিংহাম একক নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ গোল করে ম্যাচের জয় নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে এক আসরে ইংল্যান্ডের হয়ে সাত গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নাম লেখান তিনি।
৬-৪ গোলের এই জয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটি তাদের অন্যতম সেরা অর্জন হলেও সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের আক্ষেপ শেষ পর্যন্ত থেকেই গেল।