কুয়ালালামপুর: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক উপদেষ্টা তেংকু জাফরুল । তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি জ্বালানি তেলের দাম ও পেট্রোল ভর্তুকির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েছে।
বারনামাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা নতুন কিছু নয়। অতীতেও অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সতর্ক নজর রাখলেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
তিনি আরও জানান, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অর্থনীতি মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য অর্থনৈতিক পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করে রেখেছে।
জাফরুল বলেন, পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী বহু দেশের ওপর প্রভাব ফেলে, যার মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া । তাই সরকার প্রতিটি মুহূর্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেন, “আমরা প্রতি ঘণ্টা, প্রতি মিনিটে পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছি। একই সঙ্গে সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে চলমান উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো অব্যাহত থাকবে এবং দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি বজায় থাকবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেন সাধারণ মানুষের জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, সে বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এজন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জাফরুল আরও বলেন, উন্মুক্ত অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণকারী একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে মালয়েশিয়াকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
এদিকে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম -এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জাফরুল। তিনি বলেন, নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, “এখন আমার মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারকে সহায়তা করা, বিশেষ করে জনগণ ও অর্থনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে।”
এর আগে কুয়ালালামপুরের জাকেল মলে আয়োজিত ‘রাইকান কাসিহ রমজান’ কর্মসূচিতে অংশ নেন জাফরুল। সেখানে তিনি ১৫৫ জন এতিম ও অসনাফ শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের জন্য হরি রায়া উপলক্ষে পোশাক কিনতে সহায়তা করেন এবং ‘দুইত রায়া’ ও অনুদান বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে রুমাহ কাসিহ নুরুল হাশানাহ এবং পার্তুবুহান কেবাজিকান আনাক-আনাক ইয়াতিম ও অসনাফ কাসেহ ইবু কল্যাণ সংস্থাকেও সহায়তা প্রদান করা হয়।







