বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার। তিনি সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে ইসলামভীতির বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
Volker Türk রোববার ইসলামভীতি প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের প্রতি বৈরিতা ও বৈষম্য বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত অনলাইনে ইসলামভিত্তিক ঘৃণামূলক বক্তব্য বৃদ্ধি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এই দিবসে আমরা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়কে সম্মান জানাই, যাদের অবদান সমাজকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে তিনি “ইসলামভীতির ক্রমবর্ধমান ঢেউ” নিয়ে সতর্কবার্তা দেন।
তাঁর মতে, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাব অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে ইসলামবিরোধী কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, মুসলিমরা দৈনন্দিন জীবনে নানা ধরনের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, মসজিদ ভাঙচুর এবং সামাজিক মাধ্যমে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে হিজাব পরা নারী ও কিশোরীদের লক্ষ্য করে ঘৃণামূলক আচরণ বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভলকার টুর্ক সতর্ক করে বলেন, কিছু দেশে বৈষম্য কেবল সামাজিক পর্যায়েই নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেও দেখা যায়। কর্মক্ষেত্র, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য পরিষেবায় মুসলিমরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন—এবং কোথাও কোথাও এই বৈষম্য আইনের মধ্যেও প্রতিফলিত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব হলো সকল নাগরিককে—মুসলিমসহ—সহিংসতা ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
“ইসলামভীতি অন্যান্য ঘৃণা ও বৈষম্যের মতোই একই গুরুত্ব ও জরুরিতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে,” বলে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।