ওয়াশিংটন: প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের ওপর দীর্ঘদিনের প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে এনভিডিয়াকে অনুমতি দিয়েছেন চীনা বাজারে H20 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চিপ বিক্রি করার জন্য। এপ্রিল মাসে এই চিপ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু গত মাসে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ শিথিলকরণের বিষয়ে শীতল প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা এনভিডিয়াকে তলব করে নিরাপত্তা ঝুঁকির অভিযোগ তুলেছে এবং স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে H20 চিপ ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে। এটি চীনের স্বনির্ভর সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তোলার প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুয়াওয়ে ইতোমধ্যেই এমন চিপ তৈরি করেছে যা অনেক ক্ষেত্রে এনভিডিয়ার H20-এর সমকক্ষ বা তা ছাড়িয়ে গেছে। তবে আরও উন্নত AI প্রসেসরের জন্য চীন এখনও মার্কিন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।
ট্রাম্পের মতে, H20 এখন “অপ্রচলিত” প্রযুক্তি, যা মার্কিন আধুনিক প্রসেসরের তুলনায় নিরাপদ। এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং বহুদিন ধরে বলছেন, মার্কিন চিপকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরিণত করাই নেতৃত্ব ধরে রাখার সর্বোত্তম উপায়। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকও সমর্থন জানিয়েছেন, যথেষ্ট চিপ দিলে চীনা ডেভেলপাররা আমেরিকান প্রযুক্তির প্রতি আসক্ত হয়ে যাবে।
চীনের কর্মকর্তারা বলেন, H20 চিপে ‘ট্র্যাকিং’, ‘পজিশনিং’ বা ‘রিমোট শাটডাউন’-এর মতো বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এনভিডিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে চীনা সংস্থা ও শিল্প মন্ত্রণালয় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং বড় কোম্পানিগুলোকে H20 ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে।
এনভিডিয়ার H20 চিপ এখনও চীনের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। টিকটকের মালিক বাইটড্যান্স, আলিবাবা ও টেনসেন্ট এই প্রযুক্তিতে আগ্রহী। তবে হুয়াওয়ের চিপ মেমোরি ব্যান্ডউইথ ও উৎপাদন ক্ষমতার দিক থেকে এখনও পিছিয়ে। ২০২৫ সালে হুয়াওয়ে আনুমানিক ৭ লাখ উন্নত AI চিপ সরবরাহ করতে পারবে, যা চাহিদার তুলনায় কম।
যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ চীনের স্থানীয় চিপ শিল্পকে দ্রুততর করেছে। বার্নস্টেইনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চীনে ১৭% AI চিপ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হতো, ২০২৭ সালে তা ৫৫% হবে। একই সময়ে মার্কিন কোম্পানিগুলোর শেয়ার কমে ৪৫%-এ নামবে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত কিছুটা কৌশলগত চাপ কমালেও চীন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দেশটির লক্ষ্য এখন সম্পূর্ণ স্বনির্ভর চিপ সরবরাহ চেইন গড়ে তোলা, তবে ততদিন পর্যন্ত মার্কিন প্রযুক্তি অপরিহার্য থাকবে।