ঢাকা, ২০ জুলাই: চীনা সফটওয়্যার ‘লগইংক’-এর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সামুদ্রিক বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং জাহাজ ট্র্যাকিং ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এ সফটওয়্যারকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। বিশ্বের অন্তত ৫০টি দেশ, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে, বর্তমানে এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করছে।
যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, ‘লগইংক’-এর মাধ্যমে চীন ব্যবহারকারী দেশগুলোর তথ্যভান্ডার সংগ্রহ করে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করছে, বিশেষত সামরিক ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা বিবেচনায়।
২০০৭ সালে চীনের একটি প্রদেশ থেকে যাত্রা শুরু করে প্রযুক্তিনির্ভর এই প্ল্যাটফর্ম। বিনামূল্যে এর সেবা দেওয়া হলেও তা কখনোই ভালো চোখে দেখেনি যুক্তরাষ্ট্র। তাদের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক জাহাজে সামরিক পণ্যের অবস্থান কিংবা গতিপথও সহজেই চীনের কাছে চলে যেতে পারে, যার ফলে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটতে পারে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা রিভিউ কমিশনের এক প্রতিবেদনে সরাসরি ‘লগইংক’-এর নাম উঠে আসে। সেখানে বলা হয়, এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক রুটে থাকা সামরিক জাহাজ কিংবা পণ্যবাহী জাহাজের গন্তব্য চীন সহজেই জানতে পারছে।
বাংলাদেশেও বন্দরের পরিচালন ব্যবস্থা ও লজিস্টিক অপারেশনে ‘লগইংক’ ব্যবহার হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে ওয়াশিংটন। শুধু শুল্কনীতি বা বাণিজ্য আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, এবার মার্কিন প্রশাসন বিষয়টিকে নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলেছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ বলেন,
“চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল এখন শুধু বাণিজ্যিক সীমায় নেই। বিনিয়োগ, লজিস্টিকস, এমনকি সামুদ্রিক অপারেশনেও তারা প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট। বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলেই হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করার মতো কোনো শক্তিশালী কৌশল আমরা উপস্থাপন করতে পারিনি।”
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে শুধু রপ্তানি বাড়িয়ে চলবে না। বিষয়টি এখন অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক। আমরা এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে অনেক দেরি করে ফেলেছি।”
এদিকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশও চীনের ‘লগইংক’ সফটওয়্যার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতেও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ এখন এক কঠিন কূটনৈতিক দ্বিধাবিভক্তির মুখে। চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগও আমলে নিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা, প্রযুক্তি স্বাধীনতা ও তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে বড় চ্যালেঞ্জ।