ব্যাংকক, ২৭ ফেব্রুয়ারি : কম্বোডিয়া যদি থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে পিএইচএল-০৩ দূরপাল্লার রকেট ব্যবস্থা ব্যবহার করে, তবে কম্বোডিয়ার ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল পাল্টা হামলা চালানো হবে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে Royal Thai Army।
থাই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল উইনতাই সুবারে জানান, এখন পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় কম্বোডিয়ার পিএইচএল-০৩ মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেমের কোনো অস্বাভাবিক স্থানান্তরের তথ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পায়নি। তবে এ ধরনের দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং তা থাইল্যান্ডের আরও শক্ত ও নির্ভুল জবাব দেওয়ার যৌক্তিকতা তৈরি করবে।
এ সতর্কবার্তা এমন সময় এলো, যখন শুক্রবার সকালে সুরিন প্রদেশের কাব চোয়েং জেলার চং রাই এলাকায় একটি স্থলমাইনে পা দিয়ে থাই সেনাবাহিনীর এক সদস্য গুরুতর আহত হন। সেনাবাহিনীর দাবি, এলাকা থাইল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্বের অন্তর্ভুক্ত।
জানা যায়, দ্বিতীয় আর্মি এরিয়ার অধীনে ২৩৩তম পদাতিক ইউনিটের সদস্যরা দায়িত্ব পালনকালে বিস্ফোরণের শিকার হন। আহত সেনাকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুরিন হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। সেনাবাহিনী তার পূর্ণ চিকিৎসা ও প্রাপ্য সব সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মাটি, কাঠের টুকরা, শুকনো পাতা ও প্রাকৃতিক উপাদানের স্তরের নিচে মাইনটি গভীরে পুঁতে রাখা ছিল, যা শনাক্ত করা কঠিন ছিল। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতও মাটির অবস্থা পরিবর্তন করে থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
উইনতাই জানান, স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মাইনটি সম্ভবত কম্বোডিয়ার সেনারা এলাকা ছাড়ার আগে পুঁতে রেখে যায়, যার উদ্দেশ্য ছিল থাই সেনাদের ক্ষতি করা। তিনি দাবি করেন, অতীতে কম্বোডিয়ার সেনারা গোপনে ওই এলাকায় প্রবেশ ও অবস্থান করেছিল।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে থাইল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন হলেও আগে যেখানে কম্বোডিয়ার বাহিনী মোতায়েন ছিল, সেই এলাকাগুলোর একাধিক স্থানে এখনও স্থলমাইন থাকতে পারে। নিয়মিত তল্লাশি ও নিষ্ক্রিয়করণ অভিযান চললেও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।
তবে এসব চ্যালেঞ্জ থাই সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করবে না বলে তিনি জোর দেন। সীমান্ত এলাকায় সেনা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতা জোরদার ও মাইন অপসারণ কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কম্বোডিয়ার পিএইচএল-০৩ রকেট সিস্টেম সরানোর খবর নিয়ে জনমনে উদ্বেগ প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, বর্তমান গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি উত্তেজিত করার মতো কোনো প্রস্তুতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, এ ধরনের দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করলে তা সীমান্তের বাইরেও প্রভাব ফেলবে এবং থাইল্যান্ডকে কম্বোডিয়ার ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানোর ন্যায্যতা দেবে, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে।
“স্থল ও আকাশ—উভয় সক্ষমতা নিয়ে সেনাবাহিনী সবসময় দেশের প্রতিরক্ষায় প্রস্তুত,” বলেন উইনতাই। তিনি আরও জানান, থাইল্যান্ড বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে এবং পারস্পরিকভাবে নির্ধারিত নিয়মকে সম্মান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সেনা সদস্য ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।