শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে নতুন বিনিয়োগ ও সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়া সরকার। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে টিভিইটি স্নাতকদের উপযুক্ত চাকরির সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার কুয়ালালামপুরের উইন্ডহ্যাম গ্র্যান্ড বাংলসারে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ন্যাশনাল টিভিইটি ইনস্ট্রাক্টরস অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেড সেন্টার ম্যানেজার্স কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী রামানান রামাকৃষ্ণন।
তিনি জানান, দেশের টিভিইটি খাতকে আরও আধুনিক ও শিল্পবান্ধব করতে হায়ার স্কিলস টিভিইটি কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে, যাতে আরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চমূল্যের শিল্পে কাজের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।
রামানান বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, যা সরাসরি শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে প্রশিক্ষণ শেষে স্নাতকেরা যেন তাঁদের অর্জিত দক্ষতার সঙ্গে মিল থাকা চাকরিতে যুক্ত হতে পারেন।
কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকারি চাকরি প্ল্যাটফর্ম মাইফিউচারজবস এ এআই প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত টিভিইটি স্নাতকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার ভিত্তিতে উপযুক্ত চাকরির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্ত করবে এআই।
মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, তেল ও গ্যাসের বাইরে উন্নত উৎপাদন, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং অন্যান্য উচ্চ প্রবৃদ্ধির শিল্পে দক্ষ কর্মীর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। অনেক টিভিইটি স্নাতক প্রশিক্ষণ শেষ করার কয়েক মাসের মধ্যেই ভালো বেতন ও উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, টিভিইটি ২.০ হায়ার স্কিলস উদ্যোগ দেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যসংযোজন শিল্পখাতকে শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে মাথাপিছু জাতীয় আয় বছরে প্রায় ৭৭ হাজার ২০০ রিঙ্গিতে উন্নীত করার সরকারি লক্ষ্য অর্জনেও ভূমিকা রাখবে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন টিভিইটি প্রতিষ্ঠানের ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ স্নাতক প্রশিক্ষণ শেষ করার ছয় মাসের মধ্যে চাকরি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ নিজ নিজ প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট পেশায় কর্মরত। এ ছাড়া নিয়োগকর্তাদের সন্তুষ্টির হার ৯৭ দশমিক ২ শতাংশ।
সম্মেলনে ডিপার্টমেন্ট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্টের মহাপরিচালক কামারুজামান মোহদ আলী বলেন, টিভিইটি প্রশিক্ষক ও স্বীকৃত প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ব্যবস্থাপকেরা দেশের দক্ষ জনশক্তি তৈরির মূল চালিকাশক্তি। শিল্প বিপ্লবের পরিবর্তিত বাস্তবতায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তাঁদের নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনঃপ্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সম্মেলনে জেপিকে ইন্টারন্যাশনালাইজেশন অ্যাকশন প্ল্যান ২০২৬–২০৩০, স্কিলসমালয়েশিয়া গ্লোবাল এবং টিভিইটি ট্রান্সফরমেশন বুক উদ্বোধন করা হয়।
সরকারের আশা, অতিরিক্ত বিনিয়োগ, এআইভিত্তিক চাকরি সংযোগ এবং শিল্পখাতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ভবিষ্যৎমুখী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি বৈশ্বিক টিভিইটি খাতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।