ঢাকা, ২১ জুলাই ২০২৫ : রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকায় অবস্থিত মিলস্টোন কলেজ-এর ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত ও ১৭১ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনাগুলোর একটি।
বিমানটি বিকেল ১টা ৬ মিনিটে প্রশিক্ষণ মিশনের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে এবং মাত্র ২৫ মিনিট পর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে মিলস্টোন কলেজের ভবনের উপর আছড়ে পড়ে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিমানচালক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ তাওকির ইসলাম সাগর এবং কলেজের শিক্ষিকা মাহেরিন চৌধুরী।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়, সঙ্গে সঙ্গে ভবনের একাংশ ধসে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক চিৎকার করে বাইরে বেরিয়ে আসেন, তবে বেশ কয়েকজন ভিতরে আটকা পড়েন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, এবং পুলিশ বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের দ্রুত রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পর চিফ অ্যাডভাইজার অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এক শোকবার্তায় বলেন,
“এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। নিহতদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।”
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিমানটিতে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
সরকার ইতোমধ্যেই মিলস্টোন কলেজ এবং আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে এবং সবধরনের বিমান চলাচলে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ চালনা কতটা নিরাপদ। নাগরিক সমাজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে নিরাপদ আকাশসীমা ও প্রশিক্ষণ নীতিমালার সংস্কারের দাবি উঠেছে।
দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে সরকারি ভবনগুলোতে। নিহতদের স্মরণে শিক্ষার্থী ও নাগরিক সংগঠনগুলো প্রার্থনা সভা ও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি আয়োজন করছে।
বাংলাদেশ আজ গভীর শোকের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে — একদিকে প্রাণহানির বেদনা, অন্যদিকে ভবিষ্যতের জন্য নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতার জোরালো দাবি।