জর্জ টাউন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া মাত্র দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মালয়েশিয়ার শিক্ষামন্ত্রী ফাদলিনা সিদ্দিক । তিনি স্কুল প্রশাসন, জেলা শিক্ষা অফিস এবং রাজ্য শিক্ষা বিভাগগুলোকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার জর্জ টাউনে এসজেকেসি হেং ই-এর নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদনপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফাদলিনা বলেন, কোনো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, “আমি চাই জেলা শিক্ষা অফিসগুলো এ ধরনের ঘটনায় সর্বদা সতর্ক থাকুক এবং অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পদক্ষেপ নিক। কোনো ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়।”
সারাওয়াকের লাওয়াসে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই কেবল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে এমন অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। ফাদলিনা বলেন, এ ধরনের ঘটনা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, “কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোই সঠিক পন্থা। শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
এদিকে পারলিসে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার মতো বুলিংয়ের শিকার হয়েছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও নিজস্বভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।
“শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করি না। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে,” বলেন তিনি।
ফাদলিনা আরও বলেন, দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ করে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদেরও যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের সময় আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিদ্যমান রিপোর্টিং ও তদন্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব ঘটনা যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়।”
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘সেইফ স্কুল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন’ এবং ‘স্টুডেন্ট প্রোটেকশন পলিসি’ চালু করেছে, যার লক্ষ্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশু সুরক্ষা আরও জোরদার করা।
তার মতে, নতুন এই নীতিমালায় স্কুল, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
“এই নির্দেশিকা ও নীতিমালা শিশুদের সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত সব পক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণ করে এবং প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা প্রদান করে। এগুলো দেশের সব স্কুলে বাস্তবায়ন করা হবে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, বুলিং প্রতিরোধ এবং যৌন অসদাচরণের ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।