যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমার ইঙ্গিত মিলতেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন দেখা দিয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের উল্লেখযোগ্য পতনগুলোর একটি।
বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯২ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৮৪ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তেলের দামে এই পতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখার বার্তা। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি নতুন করে হামলা না চালায়, তাহলে তেহরানও কোনো পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে না। ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, তাদের নীতি কেবল পাল্টা জবাব দেওয়া; আগে থেকে হামলা চালানো নয়।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পরই পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। কিছু প্রতিবেদনে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালস দাবি করেছেন, কূটনৈতিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে এবং উত্তেজনা প্রশমিত করার সুযোগ তৈরি করতেই এই বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি কমার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও কমেছে। এরই প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মূল্যহ্রাসের এই প্রবণতা দেখা গেছে।