শিরোনাম :
দুর্নীতির তদন্ত প্রতিহিংসা বা ঈর্ষা থেকে নয়: আনোয়ার ইব্রাহিম সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ব্রুনাই-মালয়েশিয়ার সম্পর্ক জোরদারে সংলাপ ভুয়া পুলিশ সেজে ফোন স্ক্যাম, ইপোর এক বৃদ্ধ খোয়ালেন ১৯ লাখ রিঙ্গিত কৃষকদের সুবিধার্থে ব্যর্থ চুক্তি বাতিলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে কুয়ালালামপুরে মালয়েশীয়দের বিক্ষোভ মাহা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর, গুরুত্ব পাবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ কাম্পার ও কুয়ালা কাংসারে পৃথক ক্যাবল চুরির মামলায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ এয়ার ইটাম সশস্ত্র সংঘর্ষ: পেনাং এবং সেলাঙ্গরে অভিযানের পর গ্রেপ্তার আরও ১০ ACC to seek UAE data on Dubai assets of 73 Bangladeshis

মাহদী আমিন: নীতি-নির্ধারণ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে এক উদীয়মান নেতৃত্ব

ওয়াহিদ সোহান: বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

ঢাকা: বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দ্রুত উঠে আসা এক গুরুত্বপূর্ণ নাম মাহদী আমিন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, রাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায়।

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ঐতিহাসিক বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি মাহদী আমিনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তদারকি করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নীতি-নির্ধারক হিসেবে মাহদী আমিন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে দলের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি প্রণয়নে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, যুব ক্ষমতায়ন, সুশাসন, দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং জনকেন্দ্রিক রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়গুলো।

২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনী অনিয়ম, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন। নির্বাচনে বিজয়ের পর তিনি এটিকে “গণতন্ত্রের বিজয়” হিসেবে আখ্যা দেন।

শিক্ষাজীবনে মাহদী আমিন ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তিনি ধানমন্ডি সরকারি বয়েজ হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, যেখানে তিনি শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এছাড়া লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (LSE) থেকে পাবলিক পলিসির রাজনৈতিক অর্থনীতি বিষয়ে সনদ লাভ করেন।

২০১০ সালে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মডার্ন সাউথ এশিয়ান স্টাডিজে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল দক্ষিণ এশিয়ার নীতিনির্ধারণে প্রযুক্তির ব্যবহার। পরবর্তীতে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সবুজ প্রযুক্তি নিয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত হন।

মাহদী আমিন “বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম কেমব্রিজ” নামে একটি থিংক-ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে। এর শাখা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত।

তারেক রহমানের সঙ্গে মাহদী আমিনের সম্পর্ক শুরু হয় ২০১১ সালে কেমব্রিজে অবস্থানকালে। পরে ২০১৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর থেকেই বিএনপির নীতিনির্ধারণে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

বর্তমানে মাহদী আমিন ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়ন, যেমন পেপ্যাল চালুর মতো উদ্যোগ, সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দিচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তৈরি পোশাক শিল্পে বিএনপির অবদান তুলে ধরেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ, শিক্ষিত এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নীতিনির্ধারক আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »