কুয়ালালামপুর: মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যে বড় ধরনের অভিযানে অভিবাসন বিভাগ একটি মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসী চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িতের অভিযোগে মোট ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে ২২ জনই বিদেশি নাগরিক।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোর ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে কোটাবারু এলাকায় পরিচালিত অভিযানে প্রথমে দুই স্থানীয় ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যারা চক্রটির “রিসিভার” হিসেবে কাজ করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও একজন স্থানীয় ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যাকে এই চক্রের মূলহোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। এছাড়াও আরও দুই স্থানীয় ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যারা পরিবহনকারীর ভূমিকা পালন করছিল বলে জানা গেছে।
আটক ২২ বিদেশির মধ্যে রয়েছেন দুই ভারতীয়, তিন বাংলাদেশি, আট মিয়ানমারের পুরুষ এবং নয় মিয়ানমারের নারী। আটককৃতদের বয়স ১৩ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে।
অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের একাধিক পাসপোর্ট, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন এবং পাঁচটি যানবাহন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি তাদের কার্যপদ্ধতি পরিবর্তন করে উপকূলীয় পথ ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসীদের দেশে প্রবেশ করাচ্ছিল। পরে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হতো যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়, এবং পরে তাদের ক্লাং ভ্যালির বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো।
এ ক্ষেত্রে পরিবহনকারীরা প্রতি ব্যক্তির জন্য প্রায় ১০০ রিঙ্গিত এবং রিসিভাররা ২৫০ রিঙ্গিত করে পারিশ্রমিক পেত বলে জানানো হয়েছে।
মহাপরিচালক জানান, এই চক্রের মূলহোতা “গ্যাং বোরহান” নামের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত এবং তিনি এর আগেও একই ধরনের অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
আটককৃত সকলকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কেলান্তান অভিবাসন দপ্তরে নেওয়া হয়েছে।
অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে জনগণকে সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।