মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম অবৈধভাবে বিদেশিদের পরিচালিত ব্যবসা, ভিসার অপব্যবহার এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক লাইসেন্সের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার মালয়েশিয়ার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মাসিক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, পর্যটক ও শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা এবং স্থানীয়দের নামে লাইসেন্স নিয়ে বিদেশিদের ব্যবসা পরিচালনার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ড (এলএইচডিএন), কাস্টমস বিভাগ, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন (এমসিএমসি) এবং ব্যাংক নেগারা মালয়েশিয়াকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এছাড়াও তিনি এমসিএমসি ও ব্যাংক নেগারাকে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং অর্থ লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অর্থপাচার ও অবৈধ আয়ের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন (AMLA) প্রয়োগ করে সন্দেহজনক কার্যক্রম তদন্তের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব ব্যবসায়িক লাইসেন্স বা পারমিটের অপব্যবহার প্রমাণিত হবে, সেগুলো বাতিল করতে হবে। অবশ্য কিছু ব্যক্তি ব্যবসার লাইসেন্স নিজেদের নামে নিবন্ধন করে পরে তা বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়দের নাম ব্যবহার করে বিদেশি ব্যবসায়ীরা আমদানিকৃত পণ্য বিক্রি করছেন, যার ফলে দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে দাবি তাঁর। বিশেষ করে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যের আমদানিকৃত পণ্য বিক্রির কারণে স্থানীয় ব্যবসা হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দুর্বল নজরদারি ও অপর্যাপ্ত প্রয়োগের সুযোগ নিয়ে কিছু বিদেশি ব্যবসায়ী বাজার দখল করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এছাড়া কিছু ব্যবসায়ী সংগঠন, চেম্বার অব কমার্স এবং ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য বিদেশিদের পক্ষে মধ্যস্থতাকারী বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কিছু স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় তিনি স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে অবৈধ কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা যায়। ডিজিটাল মন্ত্রণালয় এবং এমসিএমসিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অবৈধ ব্যবসা শনাক্ত ও নজরদারির নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের আহ্বানও জানান তিনি।
আরও বলেন, প্রধান সচিবের নেতৃত্বে আন্তঃসংস্থার বৈঠকের মাধ্যমে এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকার অবৈধ ব্যবসা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না— এ বার্তা জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতে হবে।