মালয়েশিয়ায় ভিসার অপব্যবহার ও পাসের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬২ বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। সেলাঙ্গরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত ১৫ জুন মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট শাখার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অংশ নেন ৩০ জন কর্মকর্তা। গোয়েন্দা তথ্য ও জনসাধারণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইবারজায়া, বান্দার সেরি পুত্রা, বান্দার টেকনোলজি কাজাং, সেরি কেম্বাঙ্গান, সেপাং ও ডেংকিল এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে মোট ১৭টি স্থাপনায় তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে ছিল আসবাবপত্র তৈরির কারখানা, কাঠ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট, মুদি দোকান এবং বিদেশি কর্মীদের উপস্থিতি বেশি এমন হকার এলাকা।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় ও বিদেশিসহ মোট ২১০ জনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৬২ জন বিদেশিকে আটক করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা ইমিগ্রেশন আইন এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালার বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন তাদের প্রবেশের অনুমতির মূল উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে কাজসহ অন্যান্য কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। ইমিগ্রেশন বিভাগের মতে, এটি পাসের শর্তের গুরুতর লঙ্ঘন এবং বিদ্যমান আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
একই অভিযানে বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও আইন মেনে চলার বিষয়ে তদন্তে সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ১১টি সাক্ষী সমনও জারি করা হয়েছে।
আটককৃতদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই, তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতো’ জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, ভিসার অপব্যবহার, ইমিগ্রেশন সুবিধার অপপ্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে দেশজুড়ে আরও জোরদারভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
একই সঙ্গে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। অবৈধভাবে বিদেশিদের আশ্রয়, চাকরি বা অন্য কোনো সহায়তা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া, অবৈধ অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের তথ্য থাকলে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানোর জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।