বিশ্ব অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সরবরাহ শৃঙ্খল সংকটের মধ্যেও মালয়েশিয়া ও জাপানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (MIDA) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক ফায়ারসাইড চ্যাটে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন MIDA-এর চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা তেংকু দাতুক সেরি উতামা জাফরুল আজিজ এবং প্রধান অতিথি ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত নোরিয়ুকি শিকাটা।
অনুষ্ঠানে প্রায় ১০০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যেমন MITI, অর্থ মন্ত্রণালয়, LHDN এবং MIDA-এর কর্মকর্তারা ছাড়াও জাপানি ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে JETRO, JACTIM, MUFG Bank, Mizuho Bank এবং বিভিন্ন জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছিলেন।
আলোচনায় দুই দেশই বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্ন এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতজনিত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেয়।
তেংকু জাফরুল বলেন, মালয়েশিয়া ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের আস্থা, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই অংশীদারত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “মালয়েশিয়া বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত স্বচ্ছতা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
জাপানের রাষ্ট্রদূত নোরিয়ুকি শিকাটা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীলতা ও শিল্প আধুনিকায়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি জাপানের নতুন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সবুজ রূপান্তর কৌশলের সঙ্গে মালয়েশিয়ার নীতির সামঞ্জস্যের কথা তুলে ধরেন।
আলোচনায় পাঁচটি কৌশলগত খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়—জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীলতা, নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা, নতুন প্রণোদনা কাঠামো এবং শিল্প খাতের সম্পৃক্ততা।
বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, এআই, অ্যারোস্পেস, সবুজ জ্বালানি এবং বিরল খনিজ শিল্পে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
MIDA-এর তথ্য অনুযায়ী, জাপান এখনো মালয়েশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় জাপানের মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪২.৯ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা ৩,৮০০-এর বেশি প্রকল্পে বিস্তৃত। এতে প্রায় ৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
দুই দেশই জ্বালানি রূপান্তর, কার্বন নির্গমন হ্রাস এবং টেকসই শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও মালয়েশিয়া–জাপান অংশীদারত্ব এশিয়ার সরবরাহ শৃঙ্খল ও প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগ প্রবাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।