দিল্লির আফগান দূতাবাসে তালিবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সাংবাদিক বৈঠকে কোনো মহিলা সাংবাদিককে প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগে ভারতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শনিবার (১১ অক্টোবর) ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ঘটনায় নয়াদিল্লির কোনো ভূমিকা নেই।
তালিবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি আট দিনের সফরে বৃহস্পতিবার ভারতে পৌঁছান। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি দিল্লির আফগান দূতাবাসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তবে সেই ব্রিফিংয়ে কোনো নারী সাংবাদিককে দেখা যায়নি।
একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মহিলা সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। শুধু পুরুষ সাংবাদিকরাই উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সাংবাদিক মহলসহ রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধী দল কংগ্রেস এই ঘটনাকে “লজ্জাজনক” বলে অভিহিত করেছে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে লিখেছেন,
“মাননীয় মোদী, নারী সাংবাদিকদের প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বাদ দেওয়া মানে হলো, আপনি ভারতের প্রতিটি নারীর হয়ে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন।”
কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা পোস্ট করে প্রশ্ন তুলেছেন,
“তালিবান প্রতিনিধির সফরে সাংবাদিক বৈঠকে মহিলা সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, দয়া করে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করুন।”
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি. চিদম্বরম মন্তব্য করেন, “পুরুষ সাংবাদিকদের উচিত ছিল মহিলা সহকর্মীদের না-দেখে সাংবাদিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসা।”
বিতর্কের মুখে শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) এক বিবৃতিতে জানায়,
“দিল্লিতে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক আয়োজনের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, অন্য দেশের দূতাবাসের ভেতরে কীভাবে অনুষ্ঠান হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট দেশেরই থাকে। অর্থাৎ, আফগান দূতাবাসের সিদ্ধান্তে ভারত হস্তক্ষেপ করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের আগস্টে তালিবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের তালিবান নেতা ভারতের সফরে এলেন। কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস পুনরায় চালুর ঘোষণা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সফরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনেকে বলছেন, “শত্রুর শত্রু আমার মিত্র”—এই নীতিতে হেঁটে নয়াদিল্লি ইসলামাবাদকে চাপের মুখে রাখতে চাইছে।