থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে শ্রম খাতে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশি কর্মীদের সুশৃঙ্খল নিয়োগ ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী চুলাপন আমর্নভিভাত এবং থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফায়েজ মুর্শিদ কাজী-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের শ্রমবাজার, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
১৫ জুন সোমবার, থাইল্যান্ডের শ্রম মন্ত্রণালয়ের চাতুমংকোল রুমে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক করার বিষয়টি।
বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের প্রিন্সেস বাজরাকিতিয়াভা নারেন্দিরা দেব্যাবতী-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
আলোচনায় থাই শ্রমমন্ত্রী বলেন, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রম পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সেগুলো মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, থাইল্যান্ডে কর্মরত সকল বিদেশি শ্রমিক বাংলাদেশিসহ দেশের শ্রম আইন অনুযায়ী সমান সুরক্ষা ও অধিকার ভোগ করেন। কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধায় কোনো বৈষম্য নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে থাইল্যান্ডের সঙ্গে শ্রম সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য থাই শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে শ্রম সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।