সুংগাই পেতানি: বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মধ্যেও তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেছেন, জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ এড়াতে সরকার জ্বালানি ভর্তুকির ব্যয় বহন অব্যাহত রাখবে।
রবিবার সুংগাই পেতানিতে ‘হিম্পুনান রাকান মুদা মাদানি’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনোয়ার বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সরকারকে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
তিনি জানান, কোনো কোনো সময়ে জ্বালানি ভর্তুকির জন্য সরকারের মাসিক ব্যয় ৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত পর্যন্ত পৌঁছেছিল। বর্তমানে অতিরিক্ত ব্যয় মাসে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন রিঙ্গিতের মধ্যে রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে মাসে ৩ থেকে ৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।
আনোয়ার বলেন, “যদি সরকার ১০ মাস ধরে প্রতি মাসে ৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত ব্যয় করে, তাহলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৩০ বিলিয়ন রিঙ্গিত। এটি অবশ্যই বড় অঙ্কের অর্থ, তবে ব্যয় সংকোচন এবং রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপচয় ও দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে আমরা এই ব্যয় বহন করতে সক্ষম।”
প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি ভর্তুকি চালিয়ে যেতে ঋণ নেওয়ার প্রস্তাবও নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সেই দায় বহন করতে হবে।
“আমি চাইলে এখনই ঋণ নিতে পারি, তারপর সরকার ছেড়ে চলে যেতে পারি। কিন্তু সেই ঋণ শোধ করতে হবে আমাদের সন্তানদের। তাই সমাধান ঋণ নয়, বরং সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই দেশের অর্থনীতি পরিচালনা করা,” বলেন তিনি।
আনোয়ার বলেন, সরকারের এই নীতির ফলে মালয়েশিয়ায় জ্বালানির দাম বিশ্বের অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে RON95 পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১.৯৯ রিঙ্গিত নির্ধারিত থাকায় সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সুংগাই পেতানির তামান কেলাদি এলাকার পাবলিক মাঠে একটি বহুমুখী কমিউনিটি হল নির্মাণের জন্য ২০ লাখ রিঙ্গিত বরাদ্দেরও ঘোষণা দেন।
এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ তৌফিক জোহারি, দেওয়ান রাকইয়াতের স্পিকার তান শ্রী জোহারি আবদুল এবং সরকারের প্রধান সচিব তান শ্রী শামসুল আজরি আবু বাকার উপস্থিত ছিলেন।