জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরের শেষ দিকে কম লাভজনক ও কম খরচের ফ্লাইটগুলোর সংখ্যা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিনিয়োগকারীদের এক সম্মেলনে ইউনাইটেড, আমেরিকান ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।
সাউথওয়েস্টের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) টম ডক্সি বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিকভাবেই এয়ারলাইনসগুলো সক্ষমতা বা ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনবে।
জ্বালানির ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি এয়ারলাইনসগুলো গ্রীষ্মকালীন সময়সূচি থেকে ইতোমধ্যে কিছু ফ্লাইট কমিয়েছে এবং ব্যাগেজ ফি-ও বাড়িয়েছে। তবে ইউনাইটেডের সিএফও মাইকেল লেসকিনেন জানান, ভাড়া ও ফি বাড়লেও যাত্রীদের চাহিদা কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্সের (সিপিআই) তথ্য অনুযায়ী, জুন, জুলাই ও আগস্টে বিমান ভাড়া আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি ছিল।
কোন কোন রুটে ফ্লাইট কমানো হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করেনি কোনো এয়ারলাইনস। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কম জনপ্রিয় সময়ের যেমন মঙ্গলবার বা শনিবার এবং গভীর রাত বা ভোরের ফ্লাইটগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ফ্লাইটে সাধারণত যাত্রী কম থাকে এবং ভাড়াও তুলনামূলক কম।
‘ফ্রম দ্য ট্রে টেবিল’ নিউজলেটারের লেখক জ্যাক গ্রিফ বলেন, কম খরচে ভ্রমণ করতে চাওয়া যাত্রীদের কাছে এসব ফ্লাইট জনপ্রিয় হলেও জ্বালানির দাম বাড়ায় সস্তা ভাড়ার সুযোগ কমে আসছে।
এদিকে স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন স্পিরিট এয়ারলাইনসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অন্যান্য বাজেট এয়ারলাইনসগুলোর প্রিমিয়াম সেবায় ঝোঁকার কারণেও কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ কমছে বলে জানান গ্রিফ।
ইরানকেন্দ্রিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় জ্বালানি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চার বড় এয়ারলাইনস ইউনাইটেড, ডেল্টা, আমেরিকান ও সাউথওয়েস্ট এপ্রিল থেকে জুন মাসের এই সময়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি জ্বালানির পেছনে ব্যয় করেছে।
আর্গাস রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রতি গ্যালন জেট ফুয়েলের গড় দাম বেড়ে ৪.৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মে মাসের শুরুর দিকের পর এটি সর্বোচ্চ দাম।