শিরোনাম :
কেদাহতে চালচাষীদের সার সরবরাহে বিলম্ব: এমএসিসির তদন্ত শুরু জাকার্তায় আটকে পড়া মালয়েশিয়ানদের পাশে এক ইন্দোনেশীয় নারী নেপালে পৌঁছেছে মালয়েশিয়ার বিশেষ উদ্ধারকারী দল ‘স্মার্ট’ দুর্নীতির তদন্ত প্রতিহিংসা বা ঈর্ষা থেকে নয়: আনোয়ার ইব্রাহিম সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ব্রুনাই-মালয়েশিয়ার সম্পর্ক জোরদারে সংলাপ ভুয়া পুলিশ সেজে ফোন স্ক্যাম, ইপোর এক বৃদ্ধ খোয়ালেন ১৯ লাখ রিঙ্গিত কৃষকদের সুবিধার্থে ব্যর্থ চুক্তি বাতিলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে কুয়ালালামপুরে মালয়েশীয়দের বিক্ষোভ মাহা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর, গুরুত্ব পাবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ

খাগড়াছড়ি ঘটনা টিপ অব দ্য আইসবার্গ, পাহাড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি, পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন অশনি সংকেত !

সালাহউদ্দিন আহমেদ : নিরাপত্তা বিশ্লেষক
  • সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর :  খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামের জটিল সংকটের কেবলমাত্র ক্ষুদ্র অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, পাহাড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা, আন্তর্জাতিক স্বার্থ ও মিশনারি কার্যক্রম মিলে ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে, যা রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন শুধু ভৌগোলিকভাবে নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক কারণেও আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজরে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এখানে অভিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে করিডোর, বন্দর ও আরাকানের বিরল খনিজ সম্পদের কারণে পশ্চিমা শক্তিগুলো বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। ইউপিডিএফসহ কয়েকটি সংগঠন সরাসরি বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে খ্রিস্টান মিশনারিদের সক্রিয়তা বাড়ছে। এর প্রভাবে অনেক এলাকায় মুসলমানরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নানা বৈষম্যের মুখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পূর্ব তিমুরের মতো পরিস্থিতি এখানে তৈরি হতে পারে, যেখানে পশ্চিমা সহায়তা ও মিশনারি তৎপরতার ফলেই নতুন একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল।

সরকার পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর কাছে করিডোর ও খনিজ সম্পদে অংশীদারিত্ব দেওয়ার মাধ্যমে অবস্থান দুর্বল করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে পাহাড়ে সরকারের উপস্থিতি থাকলেও নীতিগতভাবে কার্যকর শক্তি প্রদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আরও সাহসী হয়ে উঠছে।

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়জুড়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুদ রয়েছে। অতীতে প্রত্যাহার করা সেনাবাহিনীর ২৩৮টি ক্যাম্প অবিলম্বে পুনঃস্থাপনের দাবি জোরালো হচ্ছে। তাঁদের বিশ্বাস, সেনা ক্যাম্প পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। সেনা উপস্থিতি সন্ত্রাস দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি নতুন খ্রিস্টান রাষ্ট্রে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এখনই প্রপার স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করা জরুরি, নইলে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »