শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ঢাকা গড়ে তুলতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিকালীন সময়ে রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো নাশকতা বা সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ অভিযান ও সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাট, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, রেলস্টেশন, শপিংমল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও ফাঁকা বাসাবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সব ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। বর্ধিত টহল, চেকপোস্ট, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সিসিটিভি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, ডাকাত ও সন্ত্রাসীসহ মোট ২,৮৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার তালিকায় গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ছাড়াও পিস্তল, গুলি, ককটেল এবং দেশীয় অস্ত্র রয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল লেনদেন চক্রে জড়িতদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়েছে। এ ধরনের একটি ঘটনায় কয়েকজন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোন, সিমকার্ড এবং বিভিন্ন যানবাহনও উদ্ধার করা হয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগ সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরে মোসলেহ্ উদ্দিন বলেন, গত মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৩৮ হাজারের বেশি মামলা করা হয়েছে এবং বিপুল অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আদালতেও হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যেখানে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই দেয়া হয়।
ঈদের ছুটিতে ‘ফাঁকা ঢাকা’ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ডিএমপি কমিশনার দাবি করেন, সাত দিনের ওই সময়ে রাজধানীতে বড় কোনো ডাকাতি বা চাঞ্চল্যকর অপরাধ হয়নি, যদিও কিছু বিচ্ছিন্ন চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
ব্রিফিংয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত অপরাধ তদন্তে অগ্রগতির কথাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পল্লবীতে এক শিশুকে হত্যার ঘটনা, মুগদায় প্রবাসী হত্যাকাণ্ড, যাত্রাবাড়ীতে নারী নির্যাতন ও হত্যার মামলা, এবং মোহাম্মদপুর ও দক্ষিণখান এলাকায় সংঘটিত ছিনতাই ও ডাকাতির পৃথক ঘটনা। এসব মামলায় একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কিছু ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
এ ছাড়া জাল টাকা তৈরি ও পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শিশু অপহরণ, খুন, চুরি ও মুক্তিপণ দাবির মতো বিভিন্ন ঘটনায়ও দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামি গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করার কথা জানায় ডিএমপি।
কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়মিতভাবে চালু থাকবে। তার ভাষায়, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ঢাকা গড়ে তোলাই ডিএমপির অগ্রাধিকার।