সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পরিকল্পনামারী ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বুধবার মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শালের জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর একদল বিদ্রোহী সদস্যের হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ১৯৮১ সালের ২ জুন দৈনিক সংবাদ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ মে সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বিদ্রোহী সেনাসদস্যদের একটি দল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এসে জিয়াউর রহমানসহ অন্তত তিনজনের মরদেহ গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
তৎকালীন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর বিদ্রোহীরা চট্টগ্রাম শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সান্ধ্য আইন জারি করে। ৩০ মে থেকে পরবর্তী দুই দিন শহরের বিভিন্ন সড়কে বিদ্রোহী সেনাসদস্যদের টহল দেখা যায়। একই দিন সকাল ৯টার পর ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। বিদ্রোহীদের অবস্থানের কারণে সড়ক ও আকাশপথেও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চট্টগ্রাম কার্যত দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
৩১ মে রাতে মেজর জেনারেল মঞ্জুর ও কর্নেল মতিউর রহমানসহ অভ্যুত্থানে জড়িত কয়েকজন কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সেনানিবাস ত্যাগ করেন। পরে সামরিক ট্রাইব্যুনালে জিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ১৮ জন সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন সীমান্ত পথে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর প্রায় ৪৫ বছর ধরে তিনি পলাতক ছিলেন।