দ্য হেগ, ১৫ জুলাই — আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (ICC) জানিয়েছে, সুদানের দারফুর অঞ্চলে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এবং এই বিষয়ে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে।
আইসিসির উপ-অভিযোজক নাজহাত শামিম খান বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সামনে এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সাল থেকে চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৪০,০০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১.৩ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
“দারফুরে মানবিক সংকট এক অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে,” — বলেন খান। “ক্ষুধা বেড়েই চলেছে, হাসপাতাল ও ত্রাণবাহী কনভয়গুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, এবং সাধারণ নাগরিকদের অবকাঠামো বারবার হামলার শিকার হচ্ছে।”
কান জানিয়েছেন, তারা পশ্চিম দারফুরে সংঘটিত অপরাধের ওপর মনোযোগ দিচ্ছেন। এই অঞ্চলের বহু ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, যারা প্রতিবেশী দেশ চাদে পালিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “আমাদের তদন্তে দেখা গেছে, পানীয় জল ও খাদ্য থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায় এখানে এক সাধারণ চর্চা হয়ে উঠেছে।”
জাতিসংঘের স্বাধীন অনুসন্ধান মিশন ইতিপূর্বে জানিয়েছিল, সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (SAF) ও আধাসামরিক Rapid Support Forces (RSF) উভয়ই ভারী অস্ত্র ব্যবহারের মাত্রা বাড়িয়েছে এবং ত্রাণকে রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।
আইসিসির প্রধান অভিশংসক করিম খান জানুয়ারিতে বলেন, SAF ও RSF উভয় পক্ষই যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ অথবা গণহত্যায় জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে।
২০০৫ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দারফুর পরিস্থিতি ICC-তে হস্তান্তর করে। তখন দারফুরে সংঘাতে আনুমানিক ৩ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালে নতুন করে SAF ও RSF-এর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ICC নতুন তদন্ত শুরু করে।
RSF-এর পূর্বসূরি জানজাওয়িদ মিলিশিয়া ২০০০-এর দশকে দারফুরে গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত হয়।
২০২৪ সালে আলি মোহাম্মদ আলি আব্দ-আল-রহমান ওরফে আলি কোশেইবের বিরুদ্ধে দারফুরে সংঘটিত অপরাধের প্রথম রায় ঘোষিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপ-অভিযোজক খান বলেন, “আমি দারফুরে বর্তমানে অবস্থানরত অপরাধীদের বলতে চাই — আজ তারা যদি নিজেদের নিরাপদ ভাবেন, মনে রাখবেন আলি কোশেইবও অতীতে তাই ভাবতেন। কিন্তু আজ সে বিচারের মুখোমুখি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই, আলি কোশেইবের বিচারের মাধ্যমে দারফুরে সংঘটিত অপরাধের বিচারের সূচনা হয়েছে মাত্র।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দারফুরের মানবিক বিপর্যয় ও সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।