জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা অন্যায্য এবং এটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করা উচিত বলে আবারও অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে নিজেদের অঙ্গীকারের কথাও জানিয়েছে দেশটি।
মালয়েশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী লুকানিসমান আওয়াং সাউনি বলেছেন, বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে নিরাপত্তা পরিষদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সোমবার দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া বরাবরই নিরাপত্তা পরিষদের ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে এবং ভেটো ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে এসেছে। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। ভেটো ক্ষমতা অন্যায্য, তাই এটি বাতিল করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ভেটো ব্যবস্থা বহাল থাকলেও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গাজার মতো বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনায় কোনো স্থায়ী সদস্যের ভেটো প্রয়োগের সুযোগ থাকা উচিত নয়।
উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ২০২২ সালে গৃহীত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬/২৬২ নম্বর প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে মালয়েশিয়া।
তিনি জানান, ওই প্রস্তাব অনুযায়ী কোনো স্থায়ী সদস্য ভেটো প্রয়োগ করলে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সাধারণ পরিষদের বৈঠক আহ্বান করতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশকে ভেটোর কারণ ব্যাখ্যা করতে হয়।
লুকানিসমান আরো বলেন, এই ব্যবস্থা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়া ভেটো দেওয়ার পর ১৬ এপ্রিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের জরুরি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও জানান, ভেটো সংস্কারের পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় ধরনের সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের আরও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পক্ষেও মালয়েশিয়া।
এ ছাড়া ২০৩৬–২০৩৭ মেয়াদের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা জমা দিয়েছে মালয়েশিয়া বলেও জানান তিনি।
উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান তুলে ধরবেন।