ইস্রায়েলে ভ্যান্সের সফর: গুপ্ত শান্তিচুক্তি ও বড় চ্যালেঞ্জ

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫

জেরুসালেম, ২৪ অক্টোবর (সিএনএন/এপি):

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স বৃহস্পতিবার ইসরায়েল সফরে পৌঁছেছেন। লক্ষ্য— গাজায় সম্প্রতি হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রাখা ও অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় খুঁজে বের করা।

ভ্যান্স তার সফরের শুরুতে সাংবাদিকদের বলেন,

“আমরা বিশ্বাস করি এই যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে, তবে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। এটি একটি সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া।”

🔹 

চুক্তির মূল দিক

এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী,

  • হামাস ও ইসরায়েল উভয় পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আক্রমণ বন্ধ রাখবে।
  • আন্তর্জাতিক তদারকি দল (বিশেষত জাতিসংঘ ও মিশরের সহায়তায়) শান্তি বজায় রাখবে।
  • গাজায় মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন শুরু হবে।

তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কিছু এলাকায় গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে, যা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

🔹 

ভ্যান্স–নেতানিয়াহু বৈঠক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সঙ্গে বৈঠকে ভ্যান্স বলেন,

“ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু ‘নির্দেশ দেয়’— এমন ধারণা সঠিক নয়। আমরা অংশীদার, অধীনস্ত নয়।”

তিনি আরও বলেন,

“আমরা চাই গাজার পুনর্গঠন শুরু হোক, হামাসকে নিরস্ত্র করা হোক এবং নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বন্ধ করা হোক।”

 

যুদ্ধবিরতির পর গাজা শহরে এখনো মানবিক সংকট বিরাজ করছে।

  • হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন।
  • খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি রয়েছে।
  • আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করেছে, “বিরতি ভেঙে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”

জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত এক বছরে গাজার সংঘাতে ৩০,০০০-এর বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন।

 

আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া

মিশর, জর্ডান ও কাতার এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এর বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।

তবে ইরান বলেছে, “এই যুদ্ধবিরতি কেবল সময়ক্ষেপণ— স্থায়ী সমাধান নয়।”

অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, “যদি গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়, তাহলে ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন আঞ্চলিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তবে সেটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আছে।

একজন বিশ্লেষক বলেন,

“যদি হামাস ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই ধৈর্য হারায়, তাহলে এই চুক্তি ভেঙে পড়তে সময় লাগবে না।”

ভ্যান্সের সফর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এক বড় বার্তা —

ওয়াশিংটন চায় এই অঞ্চলে স্থিতি ও পুনর্গঠন এগিয়ে যাক, তবে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকুক।

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।

ভ্যান্সের সফর এই বার্তা দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র এখন কেবল পর্যবেক্ষক নয়, বরং সক্রিয়ভাবে শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চায়।

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে — এই শান্তির ছায়া কতদিন টিকবে?

আরো পড়ুন
© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »