আমস্টারডাম, ১৮ জানুয়ারি : গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকিকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ অপ্রয়োজনীয় এবং এতে ন্যাটো জোট ও গ্রিনল্যান্ড কোনোটিরই উপকার হবে না।
রোববার ডাচ টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান উইল বলেন,
“এটা স্পষ্টতই ব্ল্যাকমেইল। এ ধরনের আচরণ জোটকে দুর্বল করে এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থও রক্ষা করে না।”
এর আগে শনিবার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও গ্রেট ব্রিটেন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এসব দেশ গ্রিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ন্যাটো মহড়ায় জনবল পাঠাতে সম্মত হয়েছে।
ভ্যান উইল বলেন, গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটো মিশনের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে দেখানো যে ইউরোপ গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা রক্ষায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার সঙ্গে বাণিজ্যিক চাপ জুড়ে দেওয়ার বিষয়টির তিনি বিরোধিতা করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ মালিকানা ছাড়া তিনি কোনো সমাধানে রাজি হবেন না। তাঁর মতে, কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—উভয় পক্ষের নেতারাই পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার কোনো ইচ্ছাও তাদের নেই।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির বিষয়ে সমন্বিত অবস্থান নির্ধারণ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূতরা রোববার জরুরি বৈঠকে বসছেন। ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।