বেইরুত, ২০ সেপ্টেম্বর : লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের তিবনিন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক ব্যক্তি নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছে। এটি ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ লঙ্ঘন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী হামলাটি একটি যানবাহনকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এই হামলার মাত্র একদিন আগে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি শহরে আক্রমণ চালিয়েছিল, যেখানে আগে থেকেই বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, বৃহস্পতিবারের ওই হামলায় হিজবুল্লাহর এলিট রাদওয়ান বাহিনীর অস্ত্রাগার ধ্বংস করা হয়েছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “যেসব দেশ যুদ্ধবিরতি তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিয়েছিল তাদের নীরবতা ইসরায়েলের আগ্রাসনকে আরও উৎসাহিত করছে। এখনই এসব সুস্পষ্ট সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে হবে।”
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) সতর্ক করে জানিয়েছে, এসব আক্রমণ গত বছরের নভেম্বরে হওয়া যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে অর্জিত ভঙ্গুর স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তারা ইসরায়েলকে “অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে এবং লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে যাওয়ার” আহ্বান জানিয়েছে।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের হামলার পর থেকে ইসরায়েল মোট ৪,৫০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টায় বড় বাধা তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে বৈরুত সরকার সেনাবাহিনীকে বছরের শেষ নাগাদ সীমান্ত অঞ্চলে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে।
লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজ্জি গত সপ্তাহে জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যেই সীমান্তবর্তী এলাকায় হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র করা হবে। তবে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নতুন সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।