বাংকক, ৩০ আগস্ট: থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রাকে নৈতিকতার লঙ্ঘনের অভিযোগে পদচ্যুত করেছে। মাত্র এক বছরের মধ্যে ক্ষমতা হারানো এ সিদ্ধান্ত শিনাওয়াত্রা রাজনৈতিক পরিবারের জন্য আরেকটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৩৯ বছর বয়সী পেতংতার্ন থাইল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আদালত জানায়, জুন মাসে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপে তিনি কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের প্রতি নতি স্বীকার করেছিলেন, যখন দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ পরই সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পাঁচ দিন ধরে তা চলতে থাকে।
এই রায়ের ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পথ খুলে গেলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও তীব্র হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পেতংতার্নের দল ফেউ থাই এখন কঠিন অবস্থায় পড়েছে।
অস্থায়ীভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই এবং বর্তমান মন্ত্রিসভা। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের কোনো সময়সীমা নির্ধারিত নেই।
শিনাওয়াত্রা পরিবার থেকে বা তাদের সমর্থনে এর আগে পাঁচ জন প্রধানমন্ত্রী সেনা অভ্যুত্থান বা আদালতের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। পেতংতার্ন হলেন ষষ্ঠ ব্যক্তি যিনি একই পরিণতির শিকার হলেন।
থাইল্যান্ডের অর্থনীতি বর্তমানে স্থবির অবস্থায় রয়েছে এবং প্রবৃদ্ধি এ বছর মাত্র ২.৩ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন করে দেশটির সংস্কার প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আরও বাধা তৈরি করতে পারে।