কুয়ালালামপুর:মানব পাচার, মাদক চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য পরিবহন ঠেকাতে নজরদারিতে যুক্ত হচ্ছে ড্রোন, রাডার ও স্মার্ট ক্যামেরা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, সন্দেহজনক চলাচল শনাক্ত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর একটি সমন্বিত সীমান্ত পর্যবেক্ষণ কমান্ড সেন্টার গড়ে তুলছে মালয়েশিয়া।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দেশটির দেওয়ান রাকইয়াতে এ তথ্য জানিয়েছেন উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. শামসুল আনোয়ার নাসারাহ।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ‘ন্যাশনাল বর্ডার কন্ট্রোল সিস্টেম’-এর আওতায় বিভিন্ন নজরদারি প্রযুক্তি একীভূত করা হবে। এর মাধ্যমে সীমান্তে সন্দেহজনক চলাচল শনাক্ত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।
মালয়েশিয়ার বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের গবেষণার ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চলছে বলে জানান তিনি। পরিকল্পনায় স্মার্ট ভিডিও নজরদারি, ড্রোন, সেন্সর, তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তি এবং যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র যুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে।
পার্লিস সীমান্তের অবৈধ পথ ব্যবহার করে মানব পাচার, মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য পরিবহন বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে পিএন-পাদাং বেসার আসনের সংসদ সদস্য রুশদান রুসমির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুল আনোয়ার জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘বর্ডার সিকিউরিটি কন্ট্রোল মাস্টার প্ল্যান ২০২৬–২০৩০’-এর অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি পরিকল্পনাটি চালু করা হয়।
এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি আগেভাগে শনাক্ত করা, তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো এবং স্থল ও সমুদ্রসীমায় দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় উন্নত করা।
তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমে রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ, মালয়েশিয়ান বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি, ইমিগ্রেশন বিভাগ, কাস্টমস বিভাগ এবং মালয়েশিয়ান কোয়ারেন্টাইন অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিভাগসহ একাধিক সংস্থা কাজ করছে।
কৌশলগত এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেও যৌথ অভিযানে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শুধু সীমান্ত দিয়ে অবৈধ চলাচল বন্ধ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের পেছনে থাকা বৃহত্তর নেটওয়ার্কগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। এসব নেটওয়ার্কের মধ্যে অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত নিয়োগকারী এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমও রয়েছে।
সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য রুশদান রুসমি জানতে চান, সরকারি প্রবেশপথ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এআই, ড্রোন, সেন্সর এবং নজরদারি ক্যামেরা সমন্বিত একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না।
জবাবে শামসুল আনোয়ার বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সন্দেহজনক চলাচল বিশ্লেষণ করতে পারবে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকরভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।
তিনি জানান, নজরদারি ক্যামেরা, কৌশলগত ড্রোন, রাডার এবং নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র-সংক্রান্ত কয়েকটি প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত প্রকল্প মালয়েশিয়ার ১৩তম পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি সক্ষমতা উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।