মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ব্যবস্থা বন্ধ করে সব লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সুযোগ উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এ দাবি জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থে সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা বাদ দিয়ে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের বাইরে কোনো অর্থ নেওয়া উচিত নয়। বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি ইতোমধ্যে কর্মী বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু করেছে।
আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন প্রবাসী কর্মীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা কঠোর পরিশ্রম করে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাচ্ছেন। দেশের অর্থনীতিতে তাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, নির্দিষ্ট ২৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বেশি বৈধ প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতে বিদেশে যেতে কর্মীদের ব্যয়ও কমতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কর্মীরা যাতে সহজে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কম খরচে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পান, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জনশক্তি রপ্তানিকারক সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। আলোচনায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।