মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ইস্যুতে থামছেই না উত্তেজনা। যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের চরম প্রতিশোধ নিলো ইরান। সোমবার ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দেশটি।
গত এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, এই হামলা টানা সপ্তাহব্যাপী আক্রমণের সূচনা মাত্র। উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা।
নতুন এই হামলার পর ইসরাইলি নাগরিকদের সাইরেনের সতর্কবার্তা পাওয়ামাত্র দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় দুই দেশের সামরিক উত্তেজনা এক ধাক্কায় আরও অনেক বেড়ে গেছে।
গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননে আগ্রাসন অব্যাহত রাখে ইসরায়েল। এর জবাব দিতে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে মিসাইল ছোড়ে ইরান। লেবাননে ইসরাইলি হামলা চরম সীমার অতিক্রম করে বলে জানায় ইরান। লেবাননে হামলার কারণেই ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে বলেও দাবি করে দেশটি।
এদিকে, ইরানের আইআরজিসির এ হামলার পর তেহরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে অনুরোধ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই আহ্বান উপেক্ষা করে ইরানে হামলা চালায় ইসরাইল।
এরমধ্যেই সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। ইরানের অভ্যন্তরে চলমান বিমান হামলার পরিধি আরও বাড়িয়ে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুজেস্তান প্রদেশের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাহশহরের বন্দরের একটি বিশাল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। একে ‘মার্কিন–ইসরায়েলি’ হামলা হিসেবে অভিহিত করে আইআরজিসি। পরবর্তীতে তারা জানায়, এর বদলা হিসেবে তারা ইসরায়েলের হাইফায় অনুরূপ একটি কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ইয়েমেন থেকেও ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে ইরান ও ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে এখনও কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এসবের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্পর্কের মধ্যেও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছানোর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।