প্যারিস, ২১ জুলাই — দীর্ঘ ৪১ বছর ফ্রান্সের কারাগারে আটক থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন লেবানিজ কমিউনিস্ট এবং প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রণী বিপ্লবী জর্জ আবদুল্লা। ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ রাজনৈতিক বন্দিত্বের অবসান ঘটলো তার মুক্তির মধ্য দিয়ে।
১৯৮৪ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে ফ্রান্সে গ্রেপ্তার হন আবদুল্লা। অভিযোগ ছিল, তিনি প্যালেস্টাইনের মুক্তির আন্দোলনের সমর্থনে ফরাসি মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দুই কূটনীতিক হত্যার সঙ্গে জড়িত। তিনি ছিলেন লেবাননের কমিউনিস্ট আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং প্যালেস্টাইন ইস্যুতে একজন অটল সমর্থক।
আইন অনুযায়ী, তিনি ১৯৯৯ সালেই প্যারোল পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। ফরাসি আদালত একাধিকবার তার মুক্তি অনুমোদন করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের কারণে তা কখনোই কার্যকর হয়নি।
এই দীর্ঘ বন্দিত্ব তাকে পরিণত করেছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন রাজনৈতিক বন্দির প্রতীক হিসেবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানবাধিকার কর্মী, বামপন্থী সংগঠন ও প্যালেস্টাইনপন্থী আন্দোলনগুলো জর্জ আবদুল্লার মুক্তির দাবিতে বারবার সোচ্চার হয়েছেন। তাদের মতে, এই বন্দিত্ব ছিল আইনের অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল।
আজ, ৭২ বছর বয়সে, অবশেষে মুক্ত হলেন জর্জ আবদুল্লা। তার মুক্তিকে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বন্দিদের অধিকার আন্দোলনের একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লেবাননের কুবায়াতে জন্মগ্রহণকারী আবদুল্লা ছিলেন Lebanese Armed Revolutionary Factions (LARF)-এর সদস্য। তিনি আজীবন যুক্ত ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ ও জায়নবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এবং কখনোই নিজের আদর্শ থেকে সরে আসেননি।
তার মুক্তি শুধু একটি ব্যক্তির কারামুক্তি নয়, বরং এটি নতুন করে প্রশ্ন তোলে ন্যায়বিচার, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে—বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রেক্ষাপটে।
মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বেইরুট, গাজা ও পশ্চিম তীরে আবেগঘন উদযাপন শুরু হয়। বহু মানুষ মনে করেন, জর্জ আবদুল্লার মুক্তি প্যালেস্টাইনের ন্যায্য অধিকারের লড়াইয়ে এক প্রতীকী বিজয়।
৪১ বছর পর, এই বিপ্লবী এখন ফিরে এসেছেন এক নতুন পৃথিবীতে। তবে বহু মানুষের হৃদয়ে তিনি চিরকাল প্রতিরোধ ও মুক্তির এক জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে বেঁচে থাকবেন।