ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি, সেপ্টেম্বর ৩০ : যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য বহুল ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসা প্রক্রিয়ায় হঠাৎ করেই আনা বড় পরিবর্তনে চরম ধাক্কা খেয়েছে ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষণায় জানায়, আগে যেখানে ভিসা আবেদনের গড় খরচ ছিল প্রায় ২ হাজার ডলার, সেখানে এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত। ফলে ভিসা পাওয়ার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে অন্তত ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় মার্কিন কর্মীদের চেয়েও বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের প্রধান ভরসা ছিল এই ভিসা। শুধু ২০২৪ সালেই মোট এইচ-১বি ভিসার ৭০ শতাংশ পেয়েছিলেন ভারতীয়রা, যেখানে চীনা নাগরিকদের অংশ ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। কিন্তু নতুন নিয়মে বিশেষ করে আইটি, স্বাস্থ্য ও ফাইন্যান্স খাতের মধ্যম স্তরের চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বরের মেয়ে মেঘনা গুপ্তা জানান, “সারা জীবন ভেবেছিলাম যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজ করব। এখন মনে হচ্ছে আমার ‘আমেরিকান ড্রিম’টা আসলে এক নিষ্ঠুর রসিকতা।”
শুধু নতুন আবেদনকারী নন, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজারো ভারতীয়ও আতঙ্কে আছেন। যদিও পুরোনো ভিসা বা নবায়নে অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে, তবুও ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা দোটানায় রয়েছেন। মেটার এক ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত জীবন বদলে দেয়ার মতো প্রভাব ফেলে। অনেকেই এখন সন্তানদের স্কুল, বাড়ি কেনা, স্থায়ী পরিকল্পনা—সবকিছু নিয়েই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।”
এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নতুন সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে ওয়াশিংটন ভারতের রপ্তানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যার পেছনে রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকে কারণ দেখানো হয়। এখন ভিসা নীতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।
ভারতের আইটি খাতের প্রধান সংগঠন নাসকম বলেছে, আকস্মিক এ সিদ্ধান্ত “পরিবারগুলোকে বিপর্যস্ত করবে” এবং চলমান প্রকল্পগুলোতেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তবে ভারতের সরকার বলছে, এটি দক্ষ কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ হতে পারে। বাস্তবে অনেক তরুণ বিকল্প হিসেবে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার পথ খুঁজছেন।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদের সংগঠন নর্থ আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস জানিয়েছে, ঘোষণার পরপরই তাদের হটলাইনে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অন্তত ৮০টির বেশি প্রশ্ন এসেছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সুধাংশু কৌশিক বলেন, “এটা অভিবাসীদের মনে করিয়ে দেয়া যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে কখনোই পুরোপুরি নিরাপদ নয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ সীমিত করবে বটে, তবে উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে দেশটি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।