মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের বান্দার মাহকোতা চেরাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ এজেন্ট চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মিয়ানমারের সাত নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ ঘটনায় একটি অবৈধ এজেন্ট নেটওয়ার্কের কার্যক্রমের বিষয়েও প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইমিগ্রেশন বিভাগের বিশেষ গোয়েন্দা ও অপারেশন শাখার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল ১ আগস্ট ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এর আগে ২৮ জুলাই মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ ও দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি) যৌথভাবে একটি অভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই অভিযানের ধারাবাহিক তদন্তের অংশ হিসেবে পরবর্তী অভিযানটি চালানো হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযানে একটি আবাসিক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মিয়ানমারের নাগরিকদের আটক করা হয়। তদন্তে তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবৈধভাবে অবস্থান এবং একটি অবৈধ এজেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এসেছে। ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হচ্ছিল বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মিয়ানমারের নাগরিকের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের ৫৬(১)(ডি) ধারা এবং পাসপোর্ট আইনের ১২(১)(এফ) ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া আরও চারজনকে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের ১৫(১)(সি) ধারায় এবং দুজনকে একই আইনের ৬(১)(সি) ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনকেই পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুত্রাজয়া ইমিগ্রেশন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ এজেন্ট চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে এবং তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে নিয়োগ, অবস্থান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। অবৈধ এজেন্ট ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।