মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়ে ৫ মাস কাজ না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ ১৭১ জন বিদেশী শ্রমিক হোস্টেল থেকে ১০ কিলোমিটার দুরে থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে উল্টো নিজেরাই আটক হন। রাস্তার পাশে দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন ধরে হেটে চলা বিদেশী অভিবাসীদের ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই সময় বিদেশী শ্রমিকরা অভিযোগ করতে গিয়ে আটক হওয়ার খবর দেশি-বিদেশি মিডিয়ার প্রকাশ হলে সমালোচনার ঝড় উঠে। বিষয়টি নজর আসে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। সম্প্রতি এবিষয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।
বিবৃতে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানান, বিষয়টি তারা গুরুত্বসহকারে দেখছেন। বিদেশী শ্রমিকদের নির্যাতন শোষণ জবরদস্তি করা যা মানব পাচারের সামীল। যারা এসবের সাথে জড়িতদের সাথে কোন আপস করা হবে না বলে কঠোর ভাবে হুঁশিয়ারি করেছেন।
এদিকে গত ২৮শে ডিসেম্বর মানবসম্পদ মন্ত্রলায়ে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (MKN), প্রধানমন্ত্রীর বিভাগের কাউন্সিল, জোহর রাজ্য জাতীয় নিরাপত্তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অভিবাসন বিভাগ মালয়েশিয়া (জেআইএম), সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থা (সকসো) এবং মালয়েশিয়ার নির্মাণ শিল্পের উন্নয়ন বোর্ড এর উপস্থিতিতে জড়িত নিয়োগকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন।
এর পরবর্তীতে ৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মানবসম্পদ মন্ত্রী ও বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রতারিত বিদেশী শ্রমিকদের মামলাগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বাছাই করে কি ভাবে সমাধান করা যায় এবং বিদেশী শ্রমিকদের শোষণ থেকে কি ভাবে রক্ষা করা যায় এবং অব্যবস্থাপনা কি ভাবে উন্নতি করা সে বিষয় গুলো নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদী কিছু পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান।
শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণে মনোযোগ দিয়ে স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ মন্ত্রলায় যৌথ উদ্যোগে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন।
পদক্ষেপ গুলি নিম্নরূপ:
১. অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং আইনের অধীনে নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ট্রাফিকিং ইন পারসন এবং অ্যান্টি স্মাগলিং অফ মাইগ্রেন্টস ATIPSOM ২০০৭ব্যবস্থা গ্রহণ করা ।
২. কর্মসংস্থান আইন ১৯৫৫ আইনের অধীনে নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ন্যূনতম আবাসন, বাসস্থান এবং কর্মচারী সুবিধা ১৯৯০ যা দোষী সাব্যস্ত হলে জরিমানা প্রদান করতে হবে এবং কর্মচারীকে অবহেলার জন্য প্রতিটি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করা।
৩. বেতন প্রদানে ব্যর্থ এবং উপযুক্ত বাসস্থান প্রদান না করার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান আইন ১৯৫৫ এর ধারা ৬০k এর অধীনে নতুন বিদেশী কর্মী নিয়োগের আবেদনগুলি থেকে নিয়োগকর্তাদের কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে ৷
৪. ইমিগ্রেশন বিভাগের যেকোনো লেনদেন থেকে নিয়োগকর্তাকে কালো তালিকাভুক্ত করে মালয়েশিয়া বিদ্যমান কর্মীদের জন্য PLKS সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করা।
৫. বিদেশী কর্মীদের নিয়োগকর্তার অবশিষ্ট কোটা বাতিল করা।
এই ছাড়াও আরো কিছু কঠোর পদক্ষেপগুলি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মানবসম্পদ মন্ত্রীর মধ্যে ১৬ জানুয়ারি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।