কুয়ালালামপুর: আজ থেকে সাত দশক আগে ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং শহরে অনুষ্ঠিত ১৯৫৫ সালের এশিয়া-আফ্রিকা সম্মেলনে নবস্বাধীন ও স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত দেশগুলো ঘোষণা করেছিল যে তারা আর কেবল দর্শক হয়ে থাকবে না; বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্মাণ করবে।

সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সংহতির সেই বান্দুং চেতনা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ স্বাধীনতাই প্রতিটি জাতিরাষ্ট্রের জন্য মূলভিত্তি।
বর্তমান বিশ্ব যখন বাণিজ্যযুদ্ধ, জটিল ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং প্রবল প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে রয়েছে, তখন মালয়েশিয়া জোর দিয়ে বলেছে যে আসিয়ান (ASEAN) অবশ্যই আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রধান মঞ্চ হয়ে থাকতে হবে। আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা (ASEAN Centrality) অন্তর্ভুক্তিমূলক, উন্মুক্ত এবং আইনভিত্তিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে অপরিহার্য।
এ বছর আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে থাকা মালয়েশিয়া এই ভূমিকাকে অটুট রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। দেশটি জানিয়েছে, আসিয়ান-চীন মুক্ত বাণিজ্য এলাকা ৩.০ (ACFTA 3.0)–এর মতো বড় উদ্যোগ ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এটি আগামী ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
মালয়েশিয়া বলেছে, ক্রমবর্ধমান জটিল আন্তঃনির্ভরশীলতার যুগে আমাদের একদিকে আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে নত হওয়া উচিত নয়, অন্যদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদেও জড়িয়ে পড়া চলবে না। বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘sovereign interdependence’ বা সার্বভৌম আন্তঃনির্ভরশীলতা – যা সংযোগের এক মডেল, যেখানে ভিত্তি হলো স্বেচ্ছা-সংযুক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা।
এটিই হলো সেই পথ, যা অনুসরণ করলে এশিয়া যার প্রাণকেন্দ্র আসিয়ান—খোলামেলা সহযোগিতা, ন্যায়সংগত অগ্রগতি ও অভিন্ন সমৃদ্ধির দিকে অঞ্চল এবং বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারবে।