তাইবেহ, পশ্চিম তীর, ১৫ জুলাই — ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে একমাত্র সম্পূর্ণ খ্রিস্টান প্যালেস্টিনি গ্রাম তাইবেহ-তে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পবিত্র ভূমির শীর্ষস্থানীয় খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারা।
সোমবার গ্রামটি পরিদর্শনকালে গ্রীক অর্থোডক্স প্যাট্রিয়ার্ক থিওফিলোস তৃতীয় এবং ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক পিয়েরবাটিস্তা পিজ্জাবালা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, সম্প্রতি বসতি স্থাপনকারীরা তাইবেহর একটি চার্চের পাশের এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়, এবং জরুরি সহায়তার জন্য বারবার অনুরোধ জানালেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
জেরুজালেমের গির্জা নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান এবং অভিযুক্ত বসতি স্থাপনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি করেন। তারা অভিযোগ করেন, “ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এসব সহিংসতার পেছনে থাকা দোষীদের কার্যত সহায়তা করছে এবং তাদের উপস্থিতি উৎসাহিত করছে।”
ধর্মীয় নেতারা আরও বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা সম্প্রতি স্থানীয় খ্রিস্টানদের জমিতে গবাদিপশু চরিয়েছে, একাধিক বাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং একটি হুমকিমূলক সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে যেখানে লেখা ছিল: “এখানে তোমাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।”
প্যাট্রিয়ার্ক পিজ্জাবালা বলেন, “পশ্চিম তীর কার্যত একটি আইনহীন অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এখানে এখন কেবল বলপ্রয়োগের আইন চলছে, ন্যায়বিচারের নয়। আমাদের এমন এক ব্যবস্থার প্রয়োজন যেখানে প্রত্যেকেই আইনের আশ্রয় নিতে পারে।”
তিনি এবং প্যাট্রিয়ার্ক থিওফিলোস ঐতিহাসিক সেন্ট জর্জ চার্চে একত্রে প্রার্থনা করেন। এই চার্চের পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই বসতি স্থাপনকারীরা আগুন লাগিয়েছিল বলে জানা যায়।
এই সফর এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো যখন পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। গত শুক্রবারের এক হামলায় নিহত দুই তরুণের জানাজা উপলক্ষে রোববার আল-মাজরা আশ-শারকিয়া গ্রামে শত শত মানুষ জড়ো হন।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য সংখ্যা ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইন অঞ্চলে আশঙ্কাজনক হারে কমছে। অনেকেই যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। বর্তমানে এই অঞ্চলজুড়ে খ্রিস্টানরা মোট জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশমাত্র।
গির্জা নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “যুদ্ধ ও নির্যাতন চলতে থাকলে পবিত্র ভূমিতে খ্রিস্টানদের অস্তিত্বই বিলুপ্ত হওয়ার মুখে পড়বে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।”