কলকাতা ও পাটনা, ৩০ আগস্ট : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে বিজেপি–কংগ্রেসের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। দুই রাজ্যের কংগ্রেস কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। সংঘর্ষে দুই দলের বহু নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
বিহারের দরভাঙ্গায় ‘ভোটার অধিকারের যাত্রা’ কর্মসূচিতে কংগ্রেস পতাকা গায়ে জড়ানো এক ব্যক্তির অশালীন মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে এবং কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা দাবি জানায়। পরে দরভাঙ্গা পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করা হয়েছে।
কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুক্রবার বিহারের রাজধানী পাটনায় বিজেপির প্রতিবাদ মিছিলে কংগ্রেসকর্মীরাও পাল্টা মাঠে নামলে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও পুরো শহরজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
এই উত্তেজনার আঁচ পৌঁছায় পশ্চিমবঙ্গেও। কলকাতার বিধান ভবনে কংগ্রেস সদর দপ্তরের সামনে বিজেপির বিক্ষোভ চলাকালীন একদল সমর্থক দপ্তরে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ। এসময় রাহুল গান্ধীর ছবি–সহ একাধিক পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। প্রদেশ কংগ্রেস এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এন্টালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, “রাজনীতিতে দেউলিয়া না হলে কেউ এমন কাজ করে না। বিজেপি দেশের চুরি ঢাকতে কংগ্রেসকে নিশানা করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
বিহার কংগ্রেস নেতা অশুতোষ অভিযোগ করে বলেন, “এ ঘটনায় সরকারেরই মদত রয়েছে। নীতীশ কুমার ভুল করছেন, আমরাও রাজনৈতিকভাবে এর জবাব দেব।”
ঘটনার পর দুই রাজ্যেই বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তবে পুলিশ ও প্রশাসন শান্তি বজায় রাখতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।