শিরোনাম :
বেসামরিক নাগরিক ও পবিত্র স্থাপনায় হুথিদের হামলার নিন্দা সৌদি আলেম পরিষদের প্যারিসে দাঙ্গার মধ্যে চুরি হলো মেসির স্বাক্ষর করা একাধিক স্মারক বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ৪ সমঝোতা স্মারক ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যে ৫ ফুটবলার মাদক-জুয়া বরদাশত করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আলবার্টার বিচ্ছিন্নতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, কানাডার সঙ্গেই থাকতে চান ৭৭ শতাংশ ভোটার আজ থেকে টানা পাঁচদিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু

চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগে উদ্বিগ্ন বেইজিং

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫

বেইজিং, ২ জুলাই — ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার ভঙ্গুর বাণিজ্যসমঝোতা এখনো বজায় থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন একধরনের বাণিজ্য আলোচনা চীনের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এই আলোচনা চীনা কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলা (সাপ্লাই চেইন) থেকে বাদ দেওয়ার পথ সুগম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এশিয়া ও ইউরোপের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করছেন, যেখানে ৯ জুলাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমার আগে নতুন বাণিজ্য চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। এই চুক্তিগুলোতে চীনা উপাদান সীমিত করার বিধান এবং উৎপত্তি ও মূল্য সংযোজন সংক্রান্ত কঠোর নিয়ম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা বিশ্লেষকদের মতে চীনের আন্তর্জাতিক বাজারে সংযুক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে।

ভারত এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় পণ্যের কমপক্ষে ৬০ শতাংশ মূল্য ভারতীয়ভাবে সংযোজিত হলে সেটিকে “মেইড ইন ইন্ডিয়া” হিসেবে গণ্য করা হবে এবং বাণিজ্য সুবিধা দেওয়া হবে। তবে ভারত এই সীমা কমিয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশে আনতে চাইছে।

ভিয়েতনামও একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে রয়েছে। দেশটিকে একটি স্তরভিত্তিক শুল্ক কাঠামো গ্রহণ করতে বলা হয়েছে, যেখানে যেসব পণ্যে চীনা উপাদান বেশি থাকবে, সেগুলোর ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হবে। এমন পণ্যের উপর ২০ শতাংশ বা তার বেশি শুল্ক বসতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এই কৌশল মূলত চীনের কথিত “অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার” জবাবে গৃহীত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোট গড়ে তুলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। বাইডেন প্রশাসন কঠোর বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মিত্রদের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

চীনা কর্তৃপক্ষ এখনো এই সর্বশেষ আলোচনা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে পূর্বে এ ধরনের প্রচেষ্টাকে তারা “সংরক্ষণবাদী” (প্রটেকশনিস্ট) বলে আখ্যা দিয়েছিল এবং সতর্ক করেছিল যে, চীনা কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন থেকে বাদ দিলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব প্রস্তাবিত চুক্তি চূড়ান্ত হলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোতে একটি বড় পরিবর্তন ডেকে আনবে, বিশেষত ইলেকট্রনিক্স, বস্ত্র ও অন্যান্য উৎপাদন খাতে যেখানে চীনা উপাদানের আধিপত্য রয়েছে।

চলমান এই আলোচনা কীভাবে শেষ হয়, তার ওপর নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
Translate »