গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ব্রাজিলে অবস্থান করা এক ইসরায়েলি সৈন্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার পর সে ওই দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। রোববার (৫ জানুয়ারি) স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
খবর মিডিল ইস্ট আই
ফিলিস্তিনপন্থি আইনি সংস্থা দ্য হিন্দ রজব ফাউন্ডেশন (এইচআরএফ) গত সপ্তাহে ইসরায়েলি ওই সৈন্যের বিরুদ্ধে অপরাধ মামলা দায়ের করে। একজন পর্যটক হিসেবে সে ব্রাজিলে গিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, গাজা যুদ্ধে সে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে এবং সেখানে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল রোববার বলেছে, ব্রাজিল সফরে যাওয়া সাবেক এক ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে গত সপ্তাহের শেষে ইসরায়েলবিরোধী উপকরণ ব্যবহার করে তদন্ত করার করার চেষ্টা চালানো হয়। ইসরায়েলি ওই নাগরিককে বিপদ থেকে রক্ষা করতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় করেন।
ব্রাজিলে ইসরায়েল দূতাবাসে পালিয়ে যাওয়া ওই সেনার নিরাপদ ও দ্রুত প্রস্থান নিশ্চিত করেছে।
এইচআরএফ ফাউন্ডেশনটি গাজায় দায়িত্ব পালন করা শত শত ইসরায়েলি সেনার গতিবিধি অনুসরণ করে থাকে। তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, চিলি ও অন্যান্য দেশে সফরে যাওয়া ইসরায়েলি সেনাদেরও গ্রেপ্তারের আওতায় আনতে চায়।
রোববার ব্রাজিলের একটি আদালত ওই সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ তদন্তে পুলিশকে নির্দেশ দেয়।
তবে এক বিবৃতিতে এইচআরএফ অভিযোগ করেছে, ওই সৈন্যের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং তার আলামতগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
এইচআরএফ আদালতের কাছে ৫০০ পৃষ্টার প্রমাণাদি জমা দিয়েছে। যেখান ভিডিও ফুটেজ, ভৌগলিক তথ্য, ছবি এবং বিস্ফোরক দ্রব্য পুতে রাখা ও গাজায় প্রবেশ করে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ঘর ধ্বংস করার তথ্যাদি তুলে ধরা হয়েছে।
এইচআরএফ’র আইনজীবী মায়রা পিনহেইরো বলেন, ইসরায়েলি ওই সৈন্য গাজায় ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ঘর ধ্বংস এবং তাদের জীবন জীবিকা ধ্বংসের জন্য দায়ী। সেখানে তিনি গণহত্যাও চালিয়েছে।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান দিয়াব আবু জাহজাজ, ব্রাজিলের এ পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে মন্তব্য করেছেন।